নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাচারকাণ্ডের মূল মাথা মানিক হালদার কমপক্ষে ৩০টি শিশু বিক্রি করেছে। বেশিরভাগই এসেছে বিহার থেকে। তার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে বাচ্চা কিনে নিয়ে যেত শিশু বিক্রির সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তদন্তে নেমে এই তথ্য উঠে এসেছে সিআইডির হাতে। কিন্তু কোথায় এই শিশুগুলি পৌঁছেছে, তা খুঁজে বের করাই তদন্তকারীদের চ্যালেঞ্জ। যে দম্পতিরা শিশু কিনেছেন, তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
Advertisement
শিশু পাচার চক্রের তদন্ত এগনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জেনেছেন, চক্রের মুল পান্ডা মানিক হালদার ও তার স্ত্রী মুকুল। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বিভিন্ন জেলায় শিশু বিক্রির সিন্ডিকেট চালানো ব্যক্তিদের। এই সিন্ডিকেটের লোকজন নিঃসন্তান দম্পতি খুঁজে বের করার পর টাকাপয়সা ফাইনাল করে বাচ্চার জন্য যোগাযোগ করছে মানিকের সঙ্গে। এই ধরনের কত সিন্ডিকেট চলছে এবং কারা চালাচ্ছে, এর তথ্য জোগাড় করতে মানিকের মোবাইল ভরসা তদন্তকারীদের। কল ডিটেইলস ঘেঁটে কয়েকজনের নাম মিলেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্কে কারা কারা রয়েছে, জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে আসছে, বছর দুয়েকের বেশি সময় ধরে বাচ্চা সরবরাহ করে আসছে মানিক। তাকে অর্ডার করলে দু–তিন সপ্তাহের মধ্যেই শিশু চলে আসত। এর বাইরে মানিক নিজে অনেক শিশু বিভিন্ন নিঃসন্তান দম্পতিকে বিক্রি করেছে বলে জানা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে এই সংখ্যা ৩০’এর বেশি বলে জানতে পারছেন তদন্তকারীরা। শিশু পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে জোৎস্না নামে এক মহিলা। তদন্তকারীদের জেরায় সে জানিয়েছে, বাচ্চা দু’ভাবে পাওয়া যেত। অবৈধ সম্পর্কের জেরে বিহারের বিভিন্ন নার্সিংহোমে গোপনে কোনও শিশুর জন্ম হলেই সেই খবর পৌঁছে যেত মানিকের স্থানীয় এক মহিলা শাগরেদের কাছে। তার সঙ্গে বিহারের একাধিক নার্সিংহোম, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যোগাযোগ ছিল। এমনকী সে নিজে বিভিন্ন মহিলাকে নিয়ে এসে এই সমস্ত নার্সিংহোমে প্রসব করাত বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিহারের যে সমস্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক শিশুসন্তান, সেখানেও ওই মহিলা পৌঁছে যেত। তাদের টাকাপয়সা দিয়ে বাচ্চা নিয়ে তা সাপ্লাই করত মানিককে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় বেহালার যে নার্সিংহোমের কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, এখানে মানিক বিভিন্ন মহিলাকে নিয়ে এসেছে সন্তান প্রসব করানোর জন্য। জন্ম নেওয়া শিশু বিক্রি করে দিয়েছে মানিক। এমনকী অনুমতি ছাড়াই আইভিএফ পদ্ধতিতে এখানে ফার্টিলাইজেশন করানো হতো। আর কতগুলি নার্সিংহোমের সঙ্গে মানিকের যোগাযোগ ছিল, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।



