Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ভাঙা হল ঐতিহ্যবাহী দুন স্কুলের ভিতরে থাকা মাজার

ভাঙা হল ঐতিহ্যবাহী দুন স্কুলের ভিতরে থাকা মাজার
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দেরাদুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাজার কেন? এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ শুরু করেছিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। তারই মধ্যে দেরাদুনের খ্যাতনামা আবাসিক স্কুলের সেই প্রাচীন মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটল। ব্রিটিশ জমানায় তৈরি ‘দ্য দুন স্কুল’-এর প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন একঝাঁক রাজনীতিবিদ থেকে সেলিব্রিটি। এই বেসরকারি বোর্ডিং বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী, তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, করণ সিং, নবীন পট্টনায়েক, লেখক অমিতাভ ঘোষ ও বিক্রম শেঠ সহ বহু কৃতী। এহেন ঐতিহ্যবাহী স্কুলের মাজার ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বিতর্ক।
Advertisement
সূত্রের খবর, প্রাচীন এই মাজারটি সম্প্রতি স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজন ব্যক্তি সেখানে ঢুকে কুড়ুল ও হাম্বর দিয়ে সেই মাজার ভেঙে ফেলে। ওই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দেরাদুনের জেলাশাসক সাবিন বনসল শুক্রবার জানান, দিন দুয়েক আগে এই ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মাজারটি ভাঙার কোনও নির্দেশ আমরা জারি করিনি। তাহলে কারা ভাঙল মাজার। জেলশাসক বলেন, আমার টিমের কাছে এবিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছি।
দুন স্কুলের ভিতরে মাজার ভাঙার ঘটনায় শোরগোল উত্তরাখণ্ডের রাজনীতি। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন উত্তরাখণ্ড রক্ষা অভিযানের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দর্শন ভারতী বলেন, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্কুলের সীমানার মধ্যে থাকা মাজারটি ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। এই কাজ যে-ই করুক না কেন, আমি স্বাগত জানাচ্ছি। স্কুলের মধ্যে মাজার থাকবে কেন? তাও আবার দুন স্কুলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরাখণ্ড ওয়াকফ বোর্ডের এক আধিকারিক বলেন, মাজারটি যেখানে ছিল, স্কুলের ওই অংশ লাগোয়া ৫৭ একর জমি এক সময় তাদের ছিল। কিন্তু সেই জমির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা নেই। তবে স্কুল সংলগ্ন একটা বড় অংশের জমির মালিকানা এখনও ওয়াকফ বোর্ডের হাতে রয়েছে। এবিষয়ে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান শাদাব শামস বলেন, স্কুলের ভিতরের মাজারটি ভেঙে দেওয়ার কথা শুনেছি। জমির মালিকানা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া উচিত।   
সম্পর্কিত সংবাদ