নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহু ইতিহাসের সাক্ষী উত্তর কলকাতার বিডন স্ট্রিটের লাটুবাবু‑ছাতুবাবুর বাড়ি। এ বাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। প্রাচীন এই পুজোর রীতিনীতি নানা বৈচিত্রে মোড়া। এই বাড়ির নাম ‘রামদুলাল নিবাস’। জগদ্ধাত্রী পুজোয় শুধুমাত্র নবমীর দিন মাতৃবন্দনা হয়। সেদিন বিভিন্ন প্রহরে হয় সপ্তমী ও অষ্টমী তিথির পুজো। এখানে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে পুজো হলেও বৈষ্ণব রীতি মেনে বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ো ও আখ। ধুনো পোড়ানো হয় না। পুজোয় একটি মূল বড় নৈবেদ্য ছাড়াও বিভিন্ন দেবদেবীর নামে উৎসর্গ করা হয় পৃথক ন’টি নৈবেদ্য। জগদ্ধাত্রীকে অন্নভোগ দেওয়া হয় না। তার পরিবর্তে লুচি, সুজি, নানারকমের ভাজা, দু-তিন রকমের তরকারি, আলুর দম, চাটনি, মিষ্টি, বিভিন্ন ফল, নারকেল নাড়ু প্রভৃতি দেওয়ার নিয়ম। এই বাড়ির তরফে রাজরূপা দেব জানান, পুজোয় বাড়ির মেয়েরা দেবী মূর্তি স্পর্শ করতে পারেন না। নিরঞ্জনের দিন ঘটের সুতো কাটার পর বেদী থেকে মূর্তি নামানোর পর নানা উপাচার শেষে তবেই মাকে মেয়েরা স্পর্শ করতে পারে। রীতি মেনে এই বাড়ির পুজোয় মায়ের গলায় পড়ানো হয় পদ্মের মালা ছাড়াও ১০৮ বেলপাতার মালা। পুরোহিতের মাধ্যমে মূর্তিকে পরানো হয় অলঙ্কার। আগে পুজো উপলক্ষ্যে বসত গানের আসর। যাত্রা হতো। এখন আর হয় না। তবে পুজোর সময় বাড়িতে বসে ভিয়েন। তৈরি হয় নানা ধরনের মিষ্টি। পুজো ঘিরে বাড়ির আত্মীয়স্বজনরা মিলিত হন। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া সারেন। সবমিলিয়ে এখন সাজ সাজ রব এই বাড়িতে।



