সংবাদদাতা, বোলপুর: আচমকা দেখলে মনে হবে কোনও পরিত্যক্ত ভবন। সীমানার পাঁচিল কোথাও আছে কোথাও নেই। সেখানেই গুটি কয়েক পড়ুয়াদের নিয়ে চলছে পঠন-পাঠন। বর্তমানে এমনই বেহাল অবস্থা নানুর বিধানসভার লালদহ সর্বানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। ক্লাসঘরগুলির অবস্থাও অত্যন্ত বিপজ্জনক। নেই খেলাধুলার পরিকাঠামো, সংস্কৃতিক মুক্তমঞ্চ। সেই কারণেই দিনদিন কমছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৫জন। জরাজীর্ণ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও নজর নেই প্রশাসনের। অথচ রাত বাড়লেই বাড়ছে সমাজ বিরোধীদের উপদ্রব। স্কুলকে মেরামত করার জন্য বারবার জেলা পরিষদ ও ব্লক প্রশাসনকে আবেদন করা হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের। স্কুল শিক্ষকদের আশঙ্কা, এমনটা চলতে থাকলে আগামী দিনে বন্ধ হয়ে যাবে পঠন-পাঠন। এমতাবস্থায় প্রশাসন গ্রামীণ এই প্রতিষ্ঠানের দিকে কবে নজর দেয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
Advertisement
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লালদহ সর্বানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ভৌগোলিকসীমাও বেশ বিচিত্র। নানুর বিধানসভার অন্তর্গত হলেও এটি বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের আলবাধা সর্পলেহনা পঞ্চায়েতে স্কুলটির অবস্থান। থানা শান্তিনিকেতন, অথচ এই স্কুল বোলপুর ইন্টেনসিভ সার্কেলের অন্তর্গত। এই ভৌগোলিক অবস্থানই স্কুলের অনুন্নয়নের মূল কারণ বলে মনে করছেন গ্রামবাসী। স্কুলের বয়স মাত্র ৫৪ বছর হলেও অত্যন্ত জরাজীর্ণ চেহারা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় সীমানার পাঁচিল ভেঙে পড়েছে। স্কুলের পিছন দিক থেকে দেখে মনে হবে কোনও ভূতুড়ে বাড়ি। অধিকাংশ ক্লাস ভগ্নপ্রায় হয়ে রয়েছে। তার মধ্যেই চলছে পঠন-পাঠন। কয়েক বিঘা স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে স্কুলটির। অথচ পড়ুয়ার সংখ্যা হাতে গোনা। পঞ্চম শ্রেণিতে ১৮জন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩৪, সপ্তম ও অষ্টমে যথাক্রমে ৪৩ জন, নবমে ৪২ ও এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৫ জন। সব মিলিয়ে ১৯৫জন।
বিদ্যালয়ে বিদ্যুতায়নের জন্য সোলার প্যানেল লাগানো হলেও তা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। নেই পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা, পড়ুয়াদের বাথরুমের অবস্থাও অস্বাস্থ্যকর। এই কারণের জন্যই দিনদিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমছে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বৃষ্টি কর্মকার, রিমা সাহা, সুচন্দ্রা কোঁড়াদের বক্তব্য কলহরপুর, সর্বানন্দপুর সর্পলেহনা প্রভৃতি গ্রামের পড়ুয়ারা এই স্কুলে পড়ে। শিক্ষকরাও যত্ন নিয়ে পড়ান। কিন্তু জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর চেহারার জন্যই পড়ুয়াদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। প্রধান শিক্ষক বিপত্তারণ ভৌমিক বলেন, পঠনপাঠনের জন্য ১২ জন শিক্ষক, একজন কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর, দু’জন শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। অথচ স্কুলের পরিকাঠামোর জন্য কমছে পড়ুয়াদের সংখ্যা। পাশাপাশি, রাত বাড়লেই স্কুল প্রাঙ্গণে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে।
বিদ্যালয়ে বিদ্যুতায়নের জন্য সোলার প্যানেল লাগানো হলেও তা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। নেই পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা, পড়ুয়াদের বাথরুমের অবস্থাও অস্বাস্থ্যকর। এই কারণের জন্যই দিনদিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমছে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বৃষ্টি কর্মকার, রিমা সাহা, সুচন্দ্রা কোঁড়াদের বক্তব্য কলহরপুর, সর্বানন্দপুর সর্পলেহনা প্রভৃতি গ্রামের পড়ুয়ারা এই স্কুলে পড়ে। শিক্ষকরাও যত্ন নিয়ে পড়ান। কিন্তু জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর চেহারার জন্যই পড়ুয়াদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। প্রধান শিক্ষক বিপত্তারণ ভৌমিক বলেন, পঠনপাঠনের জন্য ১২ জন শিক্ষক, একজন কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর, দু’জন শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। অথচ স্কুলের পরিকাঠামোর জন্য কমছে পড়ুয়াদের সংখ্যা। পাশাপাশি, রাত বাড়লেই স্কুল প্রাঙ্গণে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে।



