Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার জয়শ্রীর

ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার জয়শ্রীর
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: উত্তর বারাকপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা পুলিসি জেরায় স্বীকার করেছে জয়শ্রী দাস। শুক্লা বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে জয়শ্রী একটি র‍্যাকেট চালাত বলে পুলিস জানতে পেরেছে। প্রথমে মোটা টাকা সুদ দেওয়ার টোপ দিয়ে টাকা ধার নিত তারা। ধনী ব্যক্তি ছাড়াও রাজনৈতিক নেতারা তাদের টার্গেট ছিল। সেই টাকা নেওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তোলা হতো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি। এভাবেই গত কয়েক বছর ধরে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল ভাইস চেয়ারম্যান সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ধৃত তিনজনকে জেরা করে এমনই তথ্য উঠে এসেছে পুলিসের হাতে। ভাইস চেয়ারম্যানের কাছ থেকে দফায় দফায় ৩০ লক্ষের বেশি টাকা হাতিয়ে ছিল ধৃত জয়শ্রী, শুক্লা ও তাদের সঙ্গীরা। 
Advertisement
যে কায়দায় তারা শাসক দলের প্রবীণ এই নেতাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছিল, সেই কায়দায় অন্য কারও কাছে টাকা আদায় করেছে কি না, পুলিস সেই খোঁজ করছে। মোহনপুরের বাবনপুর লম্ফবাজারে জয়শ্রী তার স্বামী সঞ্জয়ের সেলুনে রীতিমতো র‍্যাকেট তৈরি করে ছিল। শুধু সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, জয়শ্রী ৪০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন মোহনপুরের পঞ্চায়েত প্রধান নির্মল করের কাছে। যদিও প্রধান সেই টাকা দেননি। তাঁর কথায়, ওরা অনেকের কাছে ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। নানাভাবে ফাঁসিয়ে দিত। আরও জানা গিয়েছে, ওই দুই মহিলা প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যানকে কাকু বলে ডাকত। পরে তারা নাম ধরে ডাকতে শুরু করে। চড়া সুদের লোভে জয়শ্রীদের টাকা ধার দিয়েছিলেন সত্যজিৎ। সেই টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে আরও টাকা এই গ্যাং ভাইস চেয়ারম্যানের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছিল। যার জেরে মর্মান্তিক পরিণতি ভাইস চেয়ারম্যানের। 
এদিকে বুধবার রাতে জয়শ্রীর বাড়ির সামনে মহিলারা তার কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পম্পা সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জয়শ্রী এলাকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। অনেক অভিযোগ এসেছে। ওকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে স্থানীয় মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বারাকপুরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (উত্তর) গণেশ বিশ্বাস বলেন, ‘ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। সুইসাইড নোট খতিয়ে দেখা হয়েছে। চক্রের সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ