Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছুটির দুপুরে রাঙামাটি চা বাগানে অন্য মেজাজে জনসংযোগে ‘ভাইয়া’ বুলুচিক

গোয়ালে চারটে গোরু। নিজের হাতে তাদের খেতে দিচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময় মোবাইলে রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার ফোন

ছুটির দুপুরে রাঙামাটি চা বাগানে অন্য মেজাজে জনসংযোগে ‘ভাইয়া’ বুলুচিক
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস,মালবাজার: গোয়ালে চারটে গোরু। নিজের হাতে তাদের খেতে দিচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময় মোবাইলে রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার ফোন। জরুরি কথা সেরে বারান্দায় চড়ে বেড়ানো মুরগিগুলোর উদ্দেশে ছড়িয়ে দিলেন একমুঠো দানাশস্য। হাত ধুয়ে উঠোনে এসে দাঁড়াতেই হাজির প্রতিবেশী রাধা তামাং। তাঁর হাতে একটা বাটিতে একটু তরকারি। বললেন, ‘ভাইয়া, বাড়িতে আজ এটা রান্না হয়েছে। একটু খেয়ে দেখো।’ হাসিমুখে বাটিটা হাতে নিয়ে উঠোনে দাঁড়িয়েই প্রতিবেশীর রান্না চেখে দেখলেন রাজ্যের আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক। 

Advertisement

দেখতে দেখতে রাঙামাটি চা বাগানের লেবার কোয়ার্টারের (মন্ত্রীর বাড়ি) উঠোনে এসে দাঁড়ালেন সালমা লোহার, নুরি তামাং, কালারা ওরাওঁ। ওঁদের কারো কাছে বুলুচিক কাকা, কারো কাছে ভাইয়া। একেএকে মন্ত্রী খোঁজ নিলেন, তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন কি না। কারা যুবসাথীর ফর্ম ফিলাপ করলেন ইত্যাদি। 
যদিও এটাকে ভিন্নছবি বলে মানতে নারাজ বুলুচিক। তাঁর কথায়, সারাবছর এভাবেই চা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশি। আমার সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে চা শ্রমিকদের অনুমতি নিতে হয় না। বিধায়ক, মন্ত্রী হয়েও চা বাগানের কোয়ার্টার ছেড়ে যাইনি। পরিবারকে বলেছি, আমৃত্যু এই কোয়ার্টারে থাকতে চাই। 
এরপরই পুরনো দিনের স্মৃতিতে ডুব মন্ত্রীর। বললেন, তখন বয়স ১৫। মা মারা গেল। দুই ভাই, এক বোন। বাগানে কাজ করে বাবার একার পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব নয়। অগত্যা বাগানে কাজ নিলাম। কাজ করতে করতে পড়া। গোয়ালঘরে খড় বিছিয়ে শুয়েছি। পয়সার অভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে পারিনি। 
বুলুচিকের কথায়, আমি মন্ত্রী হব কোনোদিন ভাবিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সম্মান দিয়েছেন তারজন্য দিদির কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কে প্রার্থী হবেন, সেটা দলের বিষয়। তবে আমাকে যেটুকু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। মন্ত্রীর স্ত্রী মণিকাচিক বললেন, ২০১১ সালে প্রথম বিধায়ক হন উনি। তারপর মন্ত্রী। এতদিনে আমি মাত্র তিনবার ওঁর সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছি। বাগানের লেবার কোয়ার্টারেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করি। 
বাগানের সুন্দরী লাইনের বাসিন্দা রাধা তামাং। বললেন, বুলুচিক ভাইয়া আমাদের আপনজন। ওঁকে বাগানের চৌকিদার হিসেবে কাজ করতে দেখেছি। মন্ত্রী হয়েও উনি বাগান ছেড়ে যাননি, আমাদের সঙ্গেই আছেন। 
মন্ত্রীর সাদামাটা জীবন ও জনসংযোগ মেনে নিয়েও বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য মহেশ বাগের তোপ, ভোটের সময় মন্ত্রী নিজের ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছেন। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ