শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ভুয়ো নথির ভিত্তিতে ইস্যু হয়ে গিয়েছে ১৪০টির বেশি ভারতীয় পাসপোর্ট। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসা কিছু ব্যক্তি জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে পাসপোর্টগুলি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। জঙ্গি গোষ্ঠীর এক বা একাধিক সদস্যের হাতে এভাবে কোনও পাসপোর্ট গিয়েছে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন প্রশাসন। বিষয়টি নজরে আসার পরই রিজিওনাল পাসপোর্ট অথরিটির (আরপিও) তরফে পুলিসে অভিযোগ করা হয়। একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিসের সিকিউরিটি কন্ট্রোল অফিস (এসসিও)। এই কাণ্ডে ডাকবিভাগের কর্মীদের একাংশের যোগসাজশ মিলেছে বলে খবর। কাদের হাতে এই ধরনের পাসপোর্টগুলি পৌঁছেছে এবং পোস্ট অফিসের কারা যুক্ত, তা নিয়ে খোঁজখবর চলছে।
Advertisement
কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, হাসিনার সরকারের পতনের পর পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশে করছে। তাদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য রয়েছে। তারা ভারতীয় পাসপোর্টও তৈরি করে ফেলেছে। সন্দেহজনক বেশ কিছু পাসপোর্টের নম্বর দিল্লির কর্তাদের হাতে আসে। দেখা যায়, সবক’টি ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ঠিকানা রয়েছে। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নম্বরগুলি আরপিও দপ্তরকে পাঠানো হয়। পাসপোর্টে জমা দেওয়া বার্থ সার্টিফিকেট ও স্কুল সার্টিফেকেট, ঠিকানা সহ যেসব নথি জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরপিও। রিপোর্ট আসার পর অফিসাররা জানতে পারেন, পাসপোর্টে যাঁদের নাম রয়েছে, সেখানে তাঁরা জন্মাননি। যে স্কুলের কথা বলা হয়েছে, সেগুলির কোনও অস্তিত্বই নেই। এমনকী যে জায়গায় বসবাসের কথা বলা হয়েছে, সেখানে তাঁরা কোনওদিনই ছিলেন না। দেখা যায়, এভাবে ১৪০টি পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গিয়েছে স্রেফ জাল নথির ভিত্তিতে। তখন ভবানীপুর থানায় অভিযোগ হলে তদন্ত শুরু করে সিকিউরিটি কন্ট্রোল।
তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জেনেছেন, অবৈধভাবে সীমান্তে পেরনো বাংলাদেশিরা ভারতীয় নথি জোগাড়ের জন্য দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের মাধ্যমেই নাম বদলে ও ভুয়ো ঠিকানা দেখিয়ে তৈরি হয়েছে জাল আধার, ভোটার ও প্যান। জন্মের সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্রও নকল করা হয়েছে। এমনকী পুলিস ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে কর্মীদের ম্যানেজ করেছে ওই দালালরাই। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দালালদের সঙ্গে পোস্ট অফিসের কর্মীদের একাংশের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিতেও কোনও সমস্যা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে আবার পিওনরাই দালালদের হাতে পাসপোর্ট পৌঁছে দিয়েছেন বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। যেসব সমস্ত পোস্ট অফিস থেকে এগুলি ইস্যু হয়েছিল, সেই সূত্র ধরে খোঁজখবর চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জেনেছেন, অবৈধভাবে সীমান্তে পেরনো বাংলাদেশিরা ভারতীয় নথি জোগাড়ের জন্য দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের মাধ্যমেই নাম বদলে ও ভুয়ো ঠিকানা দেখিয়ে তৈরি হয়েছে জাল আধার, ভোটার ও প্যান। জন্মের সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্রও নকল করা হয়েছে। এমনকী পুলিস ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে কর্মীদের ম্যানেজ করেছে ওই দালালরাই। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দালালদের সঙ্গে পোস্ট অফিসের কর্মীদের একাংশের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিতেও কোনও সমস্যা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে আবার পিওনরাই দালালদের হাতে পাসপোর্ট পৌঁছে দিয়েছেন বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। যেসব সমস্ত পোস্ট অফিস থেকে এগুলি ইস্যু হয়েছিল, সেই সূত্র ধরে খোঁজখবর চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।



