Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বহু হোটেলেই বাংলাদেশিদের ঘর ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

বহু হোটেলেই বাংলাদেশিদের ঘর ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জেলা উত্তর ২৪ পরগনা। চিকিৎসা সহ বিভিন্ন কাজে জেলার সদর শহর বারাসতে এসে হোটেল ভাড়া নেন অনেক বাংলাদেশি নাগরিক। বাংলাদেশে চলমান অশান্তি ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রেক্ষিতে ত্রিপুরার হোটেলগুলি বাংলাদেশিদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে আগেই। এবার সেই পথে হাঁটল বারাসতের একাধিক হোটেল। তাদের সাফ বক্তব্য, পদ্মাপারে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এদিকে, শুক্রবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের আক্রমণের প্রতিবাদে সভা করতে চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একটি সংগঠন। ১০ ডিসেম্বর ধর্মতলার ডোরিনা  ক্রসিংয়ে তারা সভা করতে চায়। ৩ ডিসেম্বর পুলিসের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও এখনও তা মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ  করেন সংগঠনের আইনজীবী। মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি ঘোষ। ৯ ডিসেম্বর শুনানি। 
Advertisement
হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারির পর অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। কট্টরপন্থী ও মৌলবাদীদের দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে একবগ্গা ভারত-বিদ্বেষ। এই আবহে বারাসত শহরের বিভিন্ন হোটেল কর্তৃপক্ষকে নাগরিক সমাজের একাংশ অনুরোধ করে বাংলাদেশিদের হোটেলের রুম ভাড়া না দেওয়ার জন্য। শুক্রবার বারাসতের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে শহরের একাধিক হোটেলে ঢুকে এই আবেদন করা হয়। বারাসত স্টেশন সংলগ্ন একটি হোটেলের ম্যানেজার সমরজিৎ কর বলেন, ‘ওই দেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারে আমরা ক্ষুব্ধ। নাগরিক সমাজের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে আসা লোকজনকে আমরা রুম ভাড়া দেব না বলে ঠিক করেছি। যতদিন পর্যন্ত হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হবে, ততদিন এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।’ অন্য একটি হোটেলের ম্যানেজার শঙ্কর আদক বলেন, ‘বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছে, এই পরিস্থিতি না বদল হওয়া পর্যন্ত সেখানকার নাগরিকদের হোটেলের ঘর ভাড়া দেব না। এতে আমাদের ব্যবসায় কিছু ক্ষতি হবে। সেটা মেনে নিয়েও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ নাগরিক সমাজের তরফে পার্থ ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এদেশে চিকিৎসার জন্য এসে বারাসতে হোটেলে থাকেন। চিকিৎসার পর ফিরেও যান। এখানে তাঁরা সবরকমের সুবিধা নেন, অথচ তাঁরাই ভারত বিদ্বেষী। তাই তাঁদের ভারতে ঠাঁই নেই। হোটেল মালিকরা আমাদের আবেদন বিবেচনা করে ওঁদের রুম না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
সম্পর্কিত সংবাদ