সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল আস্ত একটি দোতলা বাড়ি। বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এক নাবালিকা সহ তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা তিনজন আখতার আলি, রিয়াজুল আলম এবং ইমরান সুলতানা। তাঁদের উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাগনান থানার হাল্লান গ্রাম পঞ্চায়েতের খাড়োলপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়াজুল আলমরা চার ভাই। দোতলা বাড়িতে তাঁরা সপরিবারে বসবাস করেন। এদিন রাতে আচমকাই তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগে। লেলিহান শিখা গোটা বাড়িকে দ্রুত গ্রাস করে নেয়। জ্বলন্ত বাড়ি থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে বেরতে গিয়েই রিয়াজুল ও ইমরান সুলতানা অগ্নিদগ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে পাড়া-প্রতিবেশী জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। সেই সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে রিয়াজুলের আত্মীয় আখতার আলি জখম হন। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগনান থানার পুলিস। তারও কিছুক্ষণ পরে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। পারিবারিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির পাশাপাশি পুড়ে গিয়েছে রেশমা ইয়াসমিন নামে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডও। ফুলসোনা বেগম নামে বাড়ির এক সদস্য বলেন, ‘রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় আগুন লাগে। আমরা বেরিয়ে আসার সময়েই তিনজন পুড়ে গিয়েছে।’ বুধবার ঘটনাস্থলে যান হাল্লান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সেখ মাসুদ, বাগনান ২ নং ব্লকের বিডিও নেহাল আহমেদ এবং বাগনান ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রিয়জিৎ নন্দী। সেখ মাসুদ জানান, ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী যাতে পরীক্ষায় বসতে পারে, প্রশাসন তার সবরকম চেষ্টা করবে। বিডিও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের রান্না করা খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বাসনপত্র, চাল, ডাল, সব্জি দেওয়া হয়েছে। একটি কমিনিউটি হলে তাঁদের আপাতত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে বই দেওয়া হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থী যাতে অ্যাডমিট কার্ড পায়, তার জন্য শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।



