নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মধ্য ভারতের ব্যাঘ্রপ্রকল্পের সঙ্গে এরাজ্যের জঙ্গলমহলের অনেক মিল রয়েছে। ফলে জিনাতের মতোই ঝাড়খণ্ডের পালামৌ থেকে আসা বাঘটি এখানে স্থায়ী আস্তানা গড়তে চাইছে। সোমবার বিষ্ণুপুরে বনদপ্তরের একটি বিশ্রামগৃহে বাঘ নিয়ে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্য বনপাল (কেন্দ্রীয় চক্র) এস কুলান ডেইভাল একথা বলেন। সেই সঙ্গে বাঘটিকে ‘ভদ্র’ আখ্যা দিয়ে বিরক্ত না করার পরামর্শও দেন জঙ্গলমহলবাসীকে। ঠারেঠোরে তিনি এটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, আপাতত বাঘবন্দিতে খুব একটা আগ্রহী নয় বনদপ্তর। আর সেটা যদি সত্যিই হয়, তা হলে সুন্দরবনের মতোই জঙ্গলমহলেও পাকাপাকিভাবে থাকতে চলেছে বাঘ। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কোনও মহলই।
Advertisement
মুখ্য বনপাল বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে বাঘটি জঙ্গলমহলের তিন জেলা ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ঘোরাফেরা করছে। তবে এখনও পর্যন্ত মানুষ বা গবাদি পশুর কোনও ক্ষতি সে করেনি। বাঘটি অনেক ‘ভদ্র’ প্রকৃতির। তবে, হিংস্র বন্যপশুর ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। সেটি ক্ষয়ক্ষতি করতে শুরু করলে আমরা ধরব। নচেৎ তাকে বিরক্ত করা উচিত হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাঘটি স্থায়ী বাসস্থানের খোঁজ করছে। সেই কারণে জঙ্গলমহলের তিন জেলায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কোনও কোনও জায়গায় একদিন কাটাচ্ছে। কোনও এলাকায় তিন-চারদিন করেও থাকছে। জঙ্গলমহলের পরিবেশ বাঘের থাকার পক্ষে অনুকূল। বাদাবনের মতো এখানে ছোটো ছোটো জোড়বাঁধ বা সোঁতাও রয়েছে। তবে মধ্য ভারতের তুলনায় এরাজ্যের জঙ্গলমহলের জনঘনত্ব অনেক বেশি। ফলে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করছি।’
মুখ্য বানপাল বলেন, ‘অভয়ারণ্যে থাকা সব বন্যপ্রাণীর রেডিও বা স্যাটেলাইট কলার থাকে না। তেমনই এই বাঘটিরও নেই। বাঘটিকে যেহেতু আমরা এখনই ধরতে চাইছি না, তাই স্যাটেলাইট কলার নিয়ে আমরা ভাবিতও নই। জঙ্গলের মধ্যে হরিণ, বন শুয়োর সহ অন্যান্য ছোট জীবজন্তু রয়েছে। সে সব একটি বাঘের খাদ্যের জন্য যথেষ্ট। বাঘের জন্য গোটা জঙ্গলমহলে সতর্কতা জারি করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র, যে এলাকায় বাঘটি থাকছে, সেখানকার জঙ্গলে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষেধ করা হচ্ছে। তাছাড়া জঙ্গলে গাছ কাটা সহ অন্যান্য বেআইনি কাজের জন্য জঙ্গলে যাওয়াও বন্ধ হওয়া উচিত।
বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বাঘটি রাইপুর সংলগ্ন বড়দি পাহাড় এলাকায় ছিল। প্রতি রাতে বাঘটি ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিচ্ছে। দু’দিন আগে সেটি সারেঙ্গার জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছিল। রবিবার সুতানে বাঘটিকে দেখা গিয়েছিল বলে বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেন। ওই রাতে রানিবাঁধ থেকে সেটি রাইপুরের দিকে চলে যায়। এভাবে ডোরাকাটা ঘন ঘন ডেরা পাল্টানোয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সুতান গ্রামের বাসিন্দা শুকলাল বেসরা বলেন, ‘রবিবার ভোরে ছেলেকে বাস ধরানোর জন্য রানিবাঁধে যাই। ফেরার সময় ১২ মাইল জঙ্গলের মধ্যে পাকা রাস্তার উপরে বাঘের মুখোমুখী হই। বাঘটির উচ্চতা মানুষের বুকের সমান। আমার দিকে তাকালেও বাঘ আক্রমণ করার মুডে ছিল না।’
মুখ্য বানপাল বলেন, ‘অভয়ারণ্যে থাকা সব বন্যপ্রাণীর রেডিও বা স্যাটেলাইট কলার থাকে না। তেমনই এই বাঘটিরও নেই। বাঘটিকে যেহেতু আমরা এখনই ধরতে চাইছি না, তাই স্যাটেলাইট কলার নিয়ে আমরা ভাবিতও নই। জঙ্গলের মধ্যে হরিণ, বন শুয়োর সহ অন্যান্য ছোট জীবজন্তু রয়েছে। সে সব একটি বাঘের খাদ্যের জন্য যথেষ্ট। বাঘের জন্য গোটা জঙ্গলমহলে সতর্কতা জারি করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র, যে এলাকায় বাঘটি থাকছে, সেখানকার জঙ্গলে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষেধ করা হচ্ছে। তাছাড়া জঙ্গলে গাছ কাটা সহ অন্যান্য বেআইনি কাজের জন্য জঙ্গলে যাওয়াও বন্ধ হওয়া উচিত।
বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বাঘটি রাইপুর সংলগ্ন বড়দি পাহাড় এলাকায় ছিল। প্রতি রাতে বাঘটি ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিচ্ছে। দু’দিন আগে সেটি সারেঙ্গার জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছিল। রবিবার সুতানে বাঘটিকে দেখা গিয়েছিল বলে বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেন। ওই রাতে রানিবাঁধ থেকে সেটি রাইপুরের দিকে চলে যায়। এভাবে ডোরাকাটা ঘন ঘন ডেরা পাল্টানোয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সুতান গ্রামের বাসিন্দা শুকলাল বেসরা বলেন, ‘রবিবার ভোরে ছেলেকে বাস ধরানোর জন্য রানিবাঁধে যাই। ফেরার সময় ১২ মাইল জঙ্গলের মধ্যে পাকা রাস্তার উপরে বাঘের মুখোমুখী হই। বাঘটির উচ্চতা মানুষের বুকের সমান। আমার দিকে তাকালেও বাঘ আক্রমণ করার মুডে ছিল না।’



