Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঘের পর তাণ্ডব দলছুট দাঁতালের

বাঘের পর তাণ্ডব দলছুট দাঁতালের
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এ যেন ‘একে রামে রক্ষে নেই সুগ্রীব দোসর’। বাঘ নিয়ে একেই বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগের ‘বিড়ম্বনার’ শেষ নেই। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো একটি দলছুট দাঁতাল হাতি দক্ষিণ বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে চরম দৌরাত্ম্য শুরু করেছে। গত ছ’মাসে অন্তত ১০ বার বাঁকুড়া জেলার সীমানার মধ্যে ঢুকে ফসল ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করেছে ওই পূর্ণবয়স্ক হাতিটি। ফলে সেটিকে নিয়ে বনদপ্তরের কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
Advertisement
বাঁকুড়া দক্ষিণের ডিএফও প্রদীপ বাউরি বলেন, দলছুট ওই হাতিটি রূপনারায়ণ নদ পার হয়ে জঙ্গলমহলে ঢুকেছে। সেটি মাঝেম঩ধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে বাঁকুড়া জেলার সীমানায় ঢুকে ফসল নষ্ট করে। গত ছ’মাসে অন্তত বার দশেক হাতিটি আমাদের বনবিভাগে ঢুকেছে। তবে সেটি বেশিদিন বাঁকুড়ায় থাকে না। এজেলার সারেঙ্গা, সিমলাপাল, তালডাংরা এলাকায় কিছুটা সময় কাটানোর পর ফের পশ্চিম মেদিনীপুর অথবা পাঞ্চেত ডিভিশনের দিকে চলে যায়। দু’দিন আগে হাতিটি সিমলাপাল এলাকায় ঢুকেছিল। তবে সেটি আবার চলেও গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গলে হাতি, বাঘের মতো বন্যপশুর যাতায়াত লেগেই থাকে। বাঁকুড়ার জঙ্গলে ওইসব পশু এসে থাকছে, এটাও দপ্তরের একটা সাফল্য। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা জঙ্গলকে যে ঠিক রাখতে পেরেছি, তা বাঘ, হাতির আগমন ও সুরক্ষিতভাবে থেকে যাওয়াতেই বোঝা যাচ্ছে। বন্যপশুর হানায় ফসল, সম্পত্তি বা গবাদি পশুর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা ক্ষতিপূরণ দেব। ফলে এনিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
সারেঙ্গার বাসিন্দা রবিলোচন পাল, সিমলাপালের কৌশিক মহাপাত্র বলেন, বাঘ নিয়ে একেই আমরা উৎকণ্ঠায় রয়েছি। তারমধ্যে আবার দলছুট হাতিটি মাঝেমধ্যেই হানা দিচ্ছে। আমাদের কার্যত উভয়সঙ্কট অবস্থা হয়েছে।  
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার জঙ্গলে আগে দলমা থেকে মাঝেমধ্যে হাতি আসত। পরে দলমার দামালরা প্রতি বছর নিয়ম করে আসতে শুরু করে। প্রতিবার শীতের শুরুতে পাকা ধান ওঠার সময় হাতির পাল দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বাঁকুড়ায় পৌঁছত। আবার রবি শস্য খেয়ে ফের গ্রীষ্মের শুরুতে তারা জেলা থেকে বিদায় নিত। তবে গত কয়েকবছরে হাতির দল বাঁকুড়ায় আসার পর আর কার্যত ফিরে যাওয়ার নাম নিচ্ছে না। বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ এলাকার বড়জোড়ার জঙ্গলে বর্তমানে ৬৩টি বুনো হাতির একটি দল রয়েছে। জঙ্গলে খাবারের টান পড়ায় বনদপ্তর হাতির উদরপূর্তির জন্য কপি, কুমড়ো সহ অন্যান্য শাক-সব্জির ব্যবস্থা করছে। তবে দক্ষিণ বাঁকুড়ার জঙ্গলে মাঝেমধ্যে হানা দেওয়া দলছুট হাতিটির জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়নি। সে নিজের খাবার জোগাড় করে নিচ্ছে। তারজন্য এলাকার চাষের খেতে হাতিটি হানা দিচ্ছে। ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, হাতি ফসল বা সম্পত্তির যতটা ক্ষতি করে, সেই তুলনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। ক্ষতিপূরণের টাকার অঙ্ক অবিলম্বে বৃদ্ধির দাবিও তাঁরা তুলেছেন। যদিও এব্যাপারে জেলা বনদপ্তরের কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিষয়টি রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত বলে তাঁরা এড়িয়ে গিয়েছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ