সুকান্ত বসু, কলকাতা: শাস্ত্রমতে মহালয়া হল‑‘পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা’। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা অমাবস্যা তিথিতে এই বিশেষ দিনে গঙ্গা বা জলাশয়ে মৃত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল ও তিল দান করা হয়। যাতে তাঁদের আত্মা শান্তি পায়। জলদানের মাধ্যমে তাঁদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। একেই বলা হয় তর্পণ।
সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ ডঃ জয়ন্ত কুশারী বলেন, ‘শাস্ত্রমতে তর্পণের মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মাকে বিদায় জানানো হয়। এই বিশেষ দিন থেকে আলোকময় দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয়। অমাবস্যার অন্ধকার দূর করে আমাদের জীবন আলোকিত করে তোলে।’ গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার প্রধান রাজগণক পণ্ডিত অচিন্ত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবীদুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান করা হয়ে থাকে। তাই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য আছে। এর গুরুত্ব অসীম। এই দিনে মহামায়া অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে ছিলেন।’
মহালয়া ঘিরে আজও প্রতিবছর গঙ্গার ঘাটগুলিতে তর্পণের জন্য হাজার হাজার মানুষ আসেন। স্মরণ করেন মৃত পূর্বপুরুষদের। কোথাও কেউ তর্পণ শেষে ফল‑মিষ্টি-নতুন জামাকাপড় দুঃস্থ মানুষকে দান করেন। কেউ চাল‑ডাল‑তেল বিতরণ করেন। শাস্ত্রজ্ঞরা বলেন, এর ফলে পরিবারে সুখ‑শান্তি বিরাজ করে।
মহালয়ার ভোরে বেতারে শোনা যায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে অমলিন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। তাঁর চণ্ডীপাঠ গায়ে কাঁটা দেয় প্রতিবছর সেই ভোরে। প্রতিবছর এই বিশেষ দিন ভোরবেলা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা বাঙালির। এই দিনেই মৃৎশিল্পীদের ঘরে প্রথা মেনে দুর্গার চক্ষুদান হয়। কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘বহুক্ষেত্রে বাড়ির পুজো ও কিছু সর্বজনীনের প্রতিমার চোখদান এই দিনই করতে হয়। ফলে বাড়ির লোকজনের উপস্থিতিতে দুর্গার চোখ এঁকে থাকেন শিল্পীরা।’ শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘এবার মহালয়ার দিন চারটি প্রতিমার চোখ আঁকা হবে।’ প্রতিমাশিল্পীদের বক্তব্য, এই বিশেষ দিন অনেকেই পুজো দিয়ে কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যান। কোথাও এই দিন প্রকাশিত হয় শারদ পত্র‑পত্রিকা। সবমিলিয়ে মহালয়া থেকেই শুরু দুর্গাপুজোর ব্যস্ততা।