সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এতদিন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নানাভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠছিল। এবার শুধু হেনস্তা নয়, মহারাষ্ট্রে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম নইমুদ্দিন শেখ। তাঁর বাড়ি নলহাটি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ায়। তিনি মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের ভাণ্ডুপ এলাকায় একটি নির্মাণ সংস্থার অধীনে ঠিকাদারির কাজ করতেন। মুম্বইয়েই স্ত্রী ও সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে ঘর ভাড়া করে থাকতেন। পরিবারের অভিযোগ, পারিশ্রমিকের পাওনা টাকা চাওয়ায় এই পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছে। এদিন বাড়িতে ওই শ্রমিকের দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার পরিজনেরা। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি করেছে পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার থেকে হঠাৎই ওই শ্রমিক নিখোঁজ হয়ে যান। দু’দিন পরে ভাণ্ডুপ এলাকার একটি রাস্তার ধার থেকে তাঁকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানকার পুলিশ। বুধবার পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যু সংবাদ আসে। ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার তাঁর দেহ এসে পৌঁছয় নলহাটির বাড়িতে। মৃতের বাবা গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ২০০০ সাল থেকে ছেলে মুম্বইয়ে কাজ করছে। ছেলে যে নির্মাণ সংস্থার অধীনে ঠিকাদারির কাজ করত, সেখানে আট লক্ষ টাকা পাওনা ছিল। ও প্রায়ই বলত ওই সংস্থা টাকা দিচ্ছে না। সেই টাকা মেটানোর জন্য চাপ দিতেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে। ওই সংস্থার মালিকের শাস্তি চাই। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর ওই সংস্থার নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন গোলামসাহেব।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে মুম্বইয়ের মালাড এলাকায় নলহাটির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাহুল সিং নামে এক শ্রমিকের দুই কান কেটে নেওয়া হয়। এব্যাপারে নলহাটি থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, পারিশ্রমিক বাবাদ ২০ হাজার টাকা না দেওয়ায় সেখানকার এক শেঠের নামে মুম্বইয়ের থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই রাগে তাঁকে মারধরের পাশাপাশি দুই কান কেটে নেওয়া হয়।
পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের রাজ্য সভাপতি রিপন শেখ বলেন, নৃশংস ঘটনা। শুধু একটা সম্প্রদায়কে নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নির্দিষ্টভাবে বাংলাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বাংলার বহু শ্রমিককে কাজ করিয়ে নিয়ে টাকা দেওয়ার সময় টালবাহনা, মারধর ও চুরির অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলায় কথা বলেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দিচ্ছে। বাংলার মানুষের উপর এই অত্যাচার, নিপীড়ন কতদিন চলবে? তিনি আরও বলেন, বহু পরিযায়ী শ্রমিক এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু বিচার পাচ্ছেন না। তাই রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য লিগ্যাল সেল গঠন করা হোক। নলহাটি থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলেই এই বিষয়টি দেখা হবে।