সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের পণ্যর উপর পুলিশের নজরদারিও কম। চালান দেখার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামগ্রীর খানাতল্লাশি হয় না। এবার সেই সুযোগকেই অবৈধ কয়লা পাচারের জন্য কাজে লাগাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের কয়লা মাফিয়ারা। অবৈধ কয়লা লোড করে লরিতে চাল, ডাল, নুনের চালান দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই নুনের চালানেই লরি বোঝাই অবৈধ কয়লা পৌঁছে যাচ্ছে বাংলার গন্তব্যে। বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বাংলার। টন টন কয়লার কারবার হয়ে গেলেও ছিটেফোঁটাও রাজস্ব মিলছে না সরকারের।
ঝাড়খণ্ড সীমানা পেরিয়ে বাংলার ঢোকার মূল করিডর ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক। সেই জাতীয় সড়কের উপর বাংলার সবচেয়ে প্রথম পুলিশ ফাঁড়ি চৌরঙ্গী। বুধবার সেখানে ব্যস্ততা। অবৈধ কয়লা বোঝাই গাড়ি ধরা পড়েছে। চালককে গ্রেপ্তার করে মামলার কাগজপত্র তৈরি করছেন অফিসাররা। তাঁদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মী অফিসারকে জানালেন কাঁটা করে দেখা গিয়েছে ৩০ টন কয়লা পাচার হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এক পুলিশকর্তা। তিনি বলেন, লরিটি ঝাড়খণ্ড সীমানা পের করে বাংলায় ঢুকতেই চালকের কাছে চালান দেখতে চাওয়া হয়। তিনি যে চালান দেন সেখানে লেখা ছিল লরিতে রয়েছে এশিয়ান পুটিং পাওডার। গাড়ির ডালা সরেজমিনে দেখতেই দেখা যায়, সেখানে রয়েছে কয়লা। চালককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর চালক জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে কয়লা লোড করে একটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মামলা রুজু করে চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন জানা গিয়েছে, চালানের কারসাজি করে প্রতিদিন ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় বিপুল পরিমাণ কয়লা পাচারের চেষ্টা হচ্ছে। বিভিন্ন সামগ্রীর চালান দেখিয়ে কয়লা কারবার করা হচ্ছে। এদিন পুটিং পাওডার চালান হিসাবে থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অত্যাবশকীয় পণ্যের নামে ভুয়ো চালান বানিয়ে কয়লা পাচার করা হচ্ছে। এক পুলিশকর্তা বলেন, আমাদের ১১টি অত্যাবশকীয় পণ্যকে চিহ্নিত করেছি যাঁদের নকল চালান দেখিয়ে কয়লা বাংলার নানা প্রান্তে পাচারের চেষ্টা হচ্ছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নকল চালান তৈরি হচ্ছে লবণ বা নুনের। এছাড়া চাল ও ডালের চালানেও কয়লা পাচারের একাধিক ঘটনা পুলিশের নজরে এসেছে। মামলা রুজু হয়েছে। চৌরঙ্গী পুলিশ ফাঁড়িতেই এক মাসে ১৮টি কয়লা গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রতিটিতেই ভিন্ন ভিন্ন সামগ্রীর চালান ছিল।
পুলিশের দাবি, বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। কলকাতা-দিল্লি সংযোগকারী এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লরি ছুটছে। সব গাড়ি থামিয়ে চালানের সঙ্গে মিলিয়ে সামগ্রী দেখা সম্ভব নয়। তাই অনেকেই মনে করছে, পুলিশ যে গাড়ি ধরছে, তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। বাস্তবে অনেক বেশি সংখ্যক গাড়িতে কয়লা পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে রাজ্য সরকারের।