


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বাংলায় চাকরি নেই বলে বিজেপি বা তার তল্পিবাহকরা যতই বদনামের চেষ্টা করুক না কেন, খোদ মোদি সরকারেরই রিপোর্ট বলছে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি) ক্ষেত্র ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তত মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাতের তুলনায় তো বটেই। এনডিএ শাসনে চলা বিহাররের তুলনায় অনেক এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড সার্ভিসেস কোম্পানি (ন্যাসকম) এবং সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কস অব ইন্ডিয়া (এসটিপিআই)র রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য বলছে, গত এক দশকে তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাতে তথ্য-প্রযুক্তি যখন ১ হাজার ৯১৭ কোটি টাকার ব্যবসা করছে, পশ্চিমবঙ্গে তখন সেই অঙ্ক ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা। বৃদ্ধি বজায় রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে সেই অঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে ১৩ হাজার ১৪৮ কোটিতে। গুজরাতে তখন তা সবে ৮ হাজার ৭০৩ কোটি। অর্থাৎ বাংলায় দেড় গুণের বেশি।
বিহারের তো বেহাল দশা। অথচ সেখানে দীর্ঘদিন চলছে এনডিএর শাসন। ২০১৪-১৫ সালে বিহারে তথ্য-প্রযুক্তিতে ব্যবসার অঙ্ক ছিল ১০ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার। ২০২৩-২৪ সালে তা ব্যাপক হারে কমে গিয়েছে। হয়েছে মাত্র ৭৪ লক্ষ টাকা। সেই তুলনায় স্রেফ পশ্চিমবঙ্গ সহ মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক শাসনে চলা রাজ্যগুলিরই পালে হাওয়া। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে ব্যবসার অঙ্ক ৪ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। তেলেঙ্গানায় ১ লক্ষ ২১ হাজার ১১৬ কোটি। ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ুতে তা ৮০ হাজার ৬৭৭ কোটি।
এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ২২৯ ভোটারের পাশাপাশি ২০-২৯ বছর বয়সি ১ কোটি ৩১ লক্ষ তরুণদের টার্গেট করছে বিজেপি। তাদের মন জয়ে প্রকাশ হতে চলা মোদি-শাহর ‘ইস্তাহারে’ এ ব্যাপারে কিছু প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ থাকবে বলেই রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বিজেপি তার ‘ভিশন ডকুমেন্টে’ বাংলায় কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেবে। অভিযোগ চড়াবে বাংলায় কাজ নেই বলে। মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথাও থাকবে।