Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুরু কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ঝাড়াই বাছাই, শহরের অর্থশালী ‘কৃষক’দের কপালে চিন্তার ভাঁজ

কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ভুয়ো কৃষকদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকরা সুবিধা পাবেন, জানালেন কৃষিমন্ত্রী। বিস্তারিত পড়ুন।

শুরু কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ঝাড়াই বাছাই, শহরের অর্থশালী ‘কৃষক’দের কপালে চিন্তার ভাঁজ
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধান চাষ করা তো দূরের কথা, কোনো দিন জমিতেও যাননি। ফ্ল্যাট কিনে শহরে বসবাস করেন। তাঁদের কেউ বড়ো ব্যবসায়ী, আবার কেউ চাকরি করেন। অথচ খাতায়কলমে তাঁরা কৃষক। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। এবার প্রকল্পের সুবিধা দিতে সেই সমস্ত ‘বাবু’ কৃষকদের ছাড়াইবাছাই শুরু করল প্রশাসন। একমাত্র কৃষকরাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল জমানায় অনেক ভুয়ো কৃষক ওই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এবার তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কয়েক লক্ষ ভুয়ো কৃষকের নাম প্রকল্প থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। 

Advertisement

এক আধিকারিক বলেন, সরকার প্রকৃত কোনো কৃষককে বঞ্চিত করবেন না। যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।  যাঁদের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগ নেই, শুধু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কৃষক সেজে রয়েছেন, সরকার তাঁদের চিহ্নিত করবে। শুধু কৃষক বন্ধু নয়, সমস্ত প্রকল্প নিয়ে ঝাড়াই বাছাই করা হবে। উপভোক্তাদের আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা হবে। পিএম কিষাণ প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার আগে সব কিছু খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তারপরও ভুল করে যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, তাঁদের তা আবার ফেরত দিতে হয়েছে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পে তা হয়নি। যাঁরাই নথি জমা দিয়ে আবেদন করেছিলেন, তাঁরা প্রত্যে঩কেই টাকা পেয়েছেন। তারজন্য এখন আবার নতুন করে বেশ কিছু তথ্য জমা করতে হচ্ছে। কোনো মৃত কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এছাড়া অন্য কোনো ভুয়ো অ্যাকাউন্ট রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ফর্মে আধার নম্বর, জমির খতিয়ান, প্লট নম্বর, পেশা সহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীর পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কত পরিমাণ জমি রয়েছে, সেটাও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। জমি দখলের ধরণ কি? সেটা কারও কাছে থেকে কেনা নাকি, উত্তাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, এসব কিছুর বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। 
আর এক আধিকারিক বলেন, সরকার চাষিদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এনেছে। এবারের বাজেটে ধানের সহায়কমূল্য বাড়ানো হয়েছে। আলু চাষিদের জন্য প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার চাইছে একমাত্র প্রকৃত কৃষকরাই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাক। যাঁরা চাষের উপর নির্ভরশীল নয়, বা গ্রামে থাকেনই না, তাঁদের টাকা দেওয়া মানে অপচয় করা। আগের জমানায় অনেক প্রকৃত কৃষক প্রকল্পের সুবিধা পাননি। কিন্তু যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁরা টাকা পেয়েছেন। সেটা আগামী দিনে হবে না। কয়েক দিন আগে নবান্নে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ