নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি অনেক দূরের ব্যাপার। ভোট আবহে রাজ্যে দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্বাচনি প্রচার কর্মসূচি স্থির করতেই রীতিমতো হিমশিম দশা বিজেপির। রাজ্য বিজেপির কাছে এই মুহূর্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি প্রশ্ন। তা হল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনের আগে ঠিক ক’দফায় বাংলায় পাবে গেরুয়া শিবির? রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, নিয়মিতভাবে দলের নীচুতলার নেতা-কর্মীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে রাজ্য বিজেপিকে। যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের কাছে নেই।
দলীয় সূত্রে খবর, যাবতীয় বিধানসভা আসনের জট কাটিয়ে দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই এসংক্রান্ত বিষয়ে মাথা ঘামাতে চাইছেন নেতারা। তবে এক্ষেত্রেও সংশয়ে রয়েছে বিজেপি শিবির। কারণ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের আগে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
করতে সমস্যায় পড়তে হবে দলীয় নেতৃত্বকে। ইতিমধ্যে দু’দফায় পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। কিন্তু এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হয়নি। এখনও বাংলার ৩৮টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী ঘোষণা বাকি। এইসব আসনের প্রায় প্রতিটিই বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট আসনগুলিতে জট কাটানো যাচ্ছে না। স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে সরাসরি ওইসব আসনের প্রার্থী বাছাইয়ে পদক্ষেপ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্বাচনি প্রচারে কিছুটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বঙ্গ বিজেপিকে।
এব্যাপারে রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, এখনও হাতে কিছুটা সময় রয়েছে। দল তার মতো করে প্রচার করছে। তবে এখনই কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা নির্বাচনি প্রচার শুরু করলে ভোটে তার প্রভাব কত পড়বে, তা নিয়ে সংশয় থাকেই। সেই কারণে আগে সবক’টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রী সহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীদের রাজ্যে প্রচার সূচি তৈরির কাজে হাত দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, একাধিক প্রকাশ্য সমাবেশের পাশাপাশিই মোদিকে দিয়ে রাজ্যে অন্তত দু’টি ‘রোড শো’ করাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। অমিত শাহ, রাজনাথ সিংরা তো থাকবেনই। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে বাংলার নির্বাচনি প্রচারে বিশেষভাবে ব্যবহার করতে মরিয়া হয়েছে বিজেপি।