Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরকারি বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা মেলেনি, বর্ষার মধ্যে বিপাকে উপভোক্তারা

হুগলি জেলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনও বরাদ্দ হয়নি। বর্ষার মধ্যে উপভোক্তাদের সমস্যা বেড়ে চলেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সরকারি বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা  মেলেনি, বর্ষার মধ্যে বিপাকে উপভোক্তারা
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজ্যে পালাবদলের ফলে বিপাকে পড়েছেন হুগলি জেলার গ্রামীণ বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তরা। অনেকেই প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে বাড়ি তৈরি শুরু করেছিলেন। বর্ষার মরশুমে সেই অর্ধসমাপ্ত বাড়ি নিয়ে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেরই পুরানো বাড়ির জায়গাতেই নতুন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ফলে, বর্ষার মরশুমে কার্যত গৃহহারা হয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। 

Advertisement

কারণ, রাজ্য স্তরের ডামাডোলের ফলে হুগলিতে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনো বরাদ্দ হয়নি। গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরাও। এমনিতেই বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে তাঁরা জেরবার হয়ে আছেন। তার উপরে উপভোক্তদের নিত্যদিনের অভাব-অভিযোগেকে ঘিরে বিড়ম্বনা বাড়ছে। পঞ্চায়েত কর্তাদের আশঙ্কা যে কোনোদিন ওই কার্যত গৃহহারা মানুষদের তীব্র রোষের মুখে তাঁদের পড়তে হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলিতে প্রায় দুশো গ্রাম পঞ্চায়েত আছে। সাধারণভাবে প্রতিটিতে গড়ে ২০০টি করে বাড়ি প্রথম দফায় পূর্বতন সরকারের আমলে অনুমোদন মিলেছিল। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রথম কিস্তির টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। গত জুন মাসের আগেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনি ডামাডোলে তা জুনমাসের দেওয়ার প্রশাসনিক পরিকল্পনা থাকলেও রাজ্যে পালাবদলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তারই স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ হুগলি জুড়ে। যদিও ইতিমধ্যেই সরকারি তরফে বাড়ি তৈরি নিয়ে সরেজমিন তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা কতটা ব্যবহার হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাতে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ-পীড়িত মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ার চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের বাসিন্দা মঞ্জু মালিকের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আসেনি। নতুন বাড়ি শুরু করলেও মঞ্জুদেবী টাকার অভাবে ছাদ দিতে পারেননি। তিনি বলেন, বর্ষার মরশুমে খুব কষ্ট হচ্ছে। কয়েকটি গৃহপালিত পশু আছে। সেগুলিকে নিয়েও বিড়ম্বনা বাড়ছে। দ্রুত টাকা পেলে তবে ছাদ দিতে পারব। জেলা সদরের দিগসুঁই পঞ্চায়েতেই প্রায় ২৫০ জন বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তি পেয়েছিলেন। পাশের পঞ্চায়েত মগরা-১। সেখানেও প্রাপকের সংখ্যা প্রায় ৪০০। মগরা-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, বর্ষার মরশুম বলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সরকারি পদ্ধতির সুবিধা ও ত্রুটি, দুটিই মানিয়ে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। হুগলি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাড়ি তৈরির দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিতে আমাদের সরকার তৎপরতা শুরু করেছে। আশা করছি, জুলাই মাসেই টাকা বরাদ্দ হবে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু থাকার জায়গা নিয়েই যে উপভোক্তারা সমস্যায় পড়েছেন তা নয়, একবারে কাজ শেষ করার আশায় অনেকে ঋণ পর্যন্ত নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না মেলায় সেই ঋণের চাপেও নাজেহাল হতে হচ্ছে গ্রামীণ হুগলির নাগরিকদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ