Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনা, তদন্তে ঘটনার সাক্ষীর খোঁজে মরিয়া এনআইএ

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনার তদন্ত করতে মরিয়া হয়ে সাক্ষী জোগাড় করছেন এনআইএর তদন্তকারী আধিকারিকরা। গত ৩১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা তদন্তভার হাতে নিয়ে প্রথমে বেলডাঙা থানায় আসেন।

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনা, তদন্তে ঘটনার সাক্ষীর খোঁজে মরিয়া এনআইএ
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনার তদন্ত করতে মরিয়া হয়ে সাক্ষী জোগাড় করছেন এনআইএর তদন্তকারী আধিকারিকরা। গত ৩১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা তদন্তভার হাতে নিয়ে প্রথমে বেলডাঙা থানায় আসেন। ওই ঘটনায় পুলিশ ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের কয়েকজনকে নিজেদের হেপাজতে চেয়ে আদালতে যায়। কিন্তু দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সাক্ষী। তাই সাক্ষী খুঁজতে এনআইএর আধিকারিকরাও শাসকদলের নেতাদের দ্বারস্থ হন। কিন্তু, নেতারা কোনো সহযোগিতা না করায় তাঁরা বেশ ফাঁপরে পড়েছেন।

Advertisement

বেলডাঙার ঘটনায় পুলিশ আগেই চারটি পৃথক মামলা রুজু করে তদন্ত এগোতে থাকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে এসেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রথমে বেলডাঙা থানায় আসেন। তদন্তকারীরা থানায় কেস ডায়েরি এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনো ভুল পাননি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। কেন টানা দু’দিন বেলডাঙায় অশান্তি হল, তা পরিকল্পিত ছিল কি না, কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা তা যাচাই করে দেখতে শুরু করেন। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষী জোগাড় করতে তদন্তকারী আধিকারিকরা অকুস্থলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু, অধিকাংশই এই ঘটনায় সাক্ষী দিতে নারাজ।
প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডে কর্মরত বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে বেলডাঙায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মৃতের নাম আলাউদ্দিন শেখ(৩৭)। ঝাড়খণ্ডে তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিজনদের অভিযোগ, তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দেহ বাড়িতে ফিরতেই প্রতিবেশীরা ওই যুবকের মৃতদেহ নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে শাসকদলের নেতারা পুলিশকে সহযোগিতা করতে ঘটনাস্থলে যান। পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তারপরও দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালাতে থাকে। কেন ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের খুন করা হবে, অভিযোগ তুলে বেলডাঙায় শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করেন এলাকাবাসীরা। ওই ঘটনার সময়ের বিভিন্ন মোবাইলে তোলা ভিডিয়ো এবং আশপাশের এলাকার সিসিক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করছে এনআইএ। ফুটেজে দেখা যাওয়া শাসকদলের প্রথম সারির নেতাদেরও তারা ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এনআইএ’র প্রশ্নের জবাবে ঘটনার বিবরণ এবং সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানিয়েছেন শাসক নেতারা। উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েও সাক্ষী জোগাড় করে দেওয়ার জন্য শাসকদলের নেতাদেরই তারা চাপ দিতে থাকে। তবে, তাতেও কোনো লাভ হয়নি। বেলডাঙার শাসকদলের এক নেতার দাবি, এনআইএ আসার পর ওই গণ্ডগোলের ঘটনার তদন্তে আমাকে ডাকা হয়েছিল। তদন্তকারীরা যা যা প্রশ্ন করেছেন, আমি তার সঠিক উত্তর দিয়েছি। তারপরে এই ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীকে জোগাড় করে দেওয়ার জন্য আমাকে বলা হয়। কিন্তু, আমি সাক্ষী কোথায় পাব? সেটাই তদন্তকারীদের জানিয়ে দিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ