সংবাদদাতা, বেলদা: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বেলদা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা ও সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার উপশম ঘটিয়ে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে বেলদা কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড। বুধবার এই সুখবর শুনিয়েছেন এলাকার বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। তিনি জানান, বাস স্ট্যান্ডের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনিক অনুমোদন মিলেছে। খুব শীঘ্রই টেন্ডার ডেকে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু হবে। বেলদা ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। পর্যটন কেন্দ্র দীঘা, জেলা সদর মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং ওড়িশাগামী কয়েকশো সরকারি ও বেসরকারি বাস প্রতিদিন এই শহরের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু এতদিন নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস না থাকায় বাসগুলিকে রাস্তার ওপরেই যাত্রী ওঠাতে নামাতে হয়। যার ফল বেলদা মেন রোডে ভয়াবহ যানজট। যা স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের কাছে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে বেলদা স্টেশন ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় আসায় যাত্রী সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে, ফলে বেড়েছে যানজটও।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২১ সালে রাজ্য সরকারের দেওয়া দেড় কোটি টাকায় পূর্তদপ্তরের বাংলো চত্বরে বাস স্ট্যান্ড তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সেটি দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, অর্থের অভাবে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এবার সাংসদ তহবিলের টাকায় সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ হবে। তৈরি হবে আধুনিক মানের প্যাসেঞ্জার শেড ও অন্যান্য যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যমূলক ব্যবস্থা। নারায়ণগড়ের বিডিও কৌশিক প্রামানিক জানান, প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন মিলেছে এবং দ্রুত টেন্ডার করা হচ্ছে। বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বলেন, যানজটে জেরবার বেলদাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই বাস স্ট্যান্ড। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানোর পর সাংসদ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। এবার বেলদার চেহারাই বদলে যাবে। খুশি বেলদাবাসী। এখন শুধু কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা।



