বারাণসী: আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সরব বিজেপি। কিন্তু যোগী রাজ্যেই গণধর্ষণের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই শাসক দল বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত। পুলিসের দায়সারা তদন্তে ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন, তিন অভিযুক্তের দু’জন। ফলে ন্যায়বিচারের বড় দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন বারাণসীর আইআইটি-বিএইচইউ-র ছাত্রী। ক্যাম্পাসেই গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তিনি। অভিযুক্তদের সঙ্গে গেরুয়া দলের শীর্ষ নেতাদের ছবিও সামনে এসেছে। এমন প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হচ্ছে নির্যাতিতাকে। বস্তুত আদালতের চক্কর কাটতে কাটতে তিনি ক্লান্ত, বিপর্যস্ত। অবসাদ গ্রাস করেছে তাঁকে। গণধর্ষণের এক বছর পর তিনি বয়ান দিয়েছেন। দু’মাসে ছ’বার আদালতে যেতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উকিলের মাধ্যমে আদালতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ওই ছাত্রী। সেই চিঠিতে তাঁর চূড়ান্ত অসহায়তার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার পরীক্ষা চলছে। এই অবস্থায় বারবার আদালতে হাজিরা দেওয়া আমার কাছে খুবই সমস্যার। আমি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছি না।’ বারবার আদালতে গিয়ে অভিযুক্তদের মুখোমুখি হওয়াটা যে কতটা বিড়ম্বনার, চিঠিতে তাও তুলে ধরেছেন ছাত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এতে সামাজিক উপেক্ষার অনুভূতি হয় তাঁর। সেইসঙ্গে মুখোমুখি হতে হয় অভিযুক্তদের। এটা তাঁর কাছে খুবই পীড়াদায়ক।
Advertisement
বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওই ঘটনায় সারা দেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই মামলায় দুই অভিযুক্ত জামিনও পেয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ফাস্ট ট্রাক কোর্টের বিচারকের কাছে পাঠানো চিঠিতে নির্যাতিতা ভার্চুয়াল হাজিরার আর্জি জানিয়েছেন। আগামী শুনানিতে বিচারক নির্যাতিতার আর্জি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গিয়েছে। আজ, ১১ নভেম্বর শুনানি হওয়ার কথা। সেখানে তিন অভিযুক্ত ও নির্যাতিতা মুখোমুখি হতে পারেন। অভিযুক্তদের দু’জন জামিন পেলেও এখনও একজন জেলেই রয়েছে।



