


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর; শ্রীনগরের লালচক থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে জায়গাটা। সেটাই এখন কাশ্মীর পর্যটনের ‘হটস্পট’। পুলওয়ামার পাম্পোর। ভ্রমণপিপাসু মাত্রই জানেন, ‘কাশ্মীরের জাফরন টাউন’ নামে পরিচিত এই জায়গা। নভেম্বরের নরম রোদ গায়ে মেখে পাম্পোরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন চোখ জুড়িয়ে দেবে। ক্রোকাস (এটি থেকেই তৈরি হয় কেশর) ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দেশ বিদেশের মানুষ। ক্যামেরা নিয়ে কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে হাঁটু মুড়ে ফুল তুলছেন অতি সাবধানে.... এ সবই এখন দেখা যাচ্ছে পাম্পোরে।
মুম্বই থেকে এসেছিলেন পর্যটক রোহন মেহতা। তাঁর কথায়, ‘ছবিতে দেখেছি, এই বেগুনি ফুলের খেত। তবে নিজের চোখে দেখা, ফুলের অপূর্ব গন্ধ মন ভরিয়ে দিচ্ছে। এ এক অন্য অনুভূতি। বুঝতে পারি, কত ধৈর্য আর যত্ন লাগে সামান্য জাফরান উৎপাদনে।’ পর্যটকের ভিড়ে হাসি ফুটছে উপত্যকার জাফরান চাষিদের ঠোঁটে। বহু পর্যটক তাঁদের থেকে সরাসরি কিনছেন জাফরান। এর ফলে লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা। জাফরান চাষি ফয়াজ আহমেদ ভাট বলেন, ‘স্পেন, ইরানেও জাফরান চাষ হয়। কিন্তু আমাদের জাফরানের রং, গন্ধ আর মান অনেক উন্নত। পর্যটকরা এসে নিজেরাই সেটা টের পাচ্ছেন। অনেকে এখান থেকে সরাসরি কিনছেন। ফলে বিক্রি বেড়েছে।’ তবে এত আনন্দের মাঝে রয়েছে উদ্বেগও। এ বছর অনিয়মিত আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সেচের অভাবে জাফরানের ফলন কিছুটা কমেছে কেবল জাফরন নয়, কাশ্মীরের আপেল বাগানও এ বছর ভরে উঠেছিল পর্যটকদের ভিড়ে। সোপিয়ান ও সোপোরের আপেল বাগানে ফলও তুলেছেন অনেকেই। -নিজস্ব চিত্র