নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শীতকাল যেমন তেমন কাটলেও গ্রীষ্মের শুরু থেকেই বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়তে থাকে। মূলত ঊর্ধ্বমুখী গরমের জেরে ফ্যান ও এসির ব্যবহার বাড়ছে। তার জেরেই বিদ্যুতের চাহিদাও হু হু করে বাড়ছে। ঘাটতি মেটাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর একাধিক চিন্তাভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। বীরভূম জেলাজুড়ে শতাধিক নতুন ট্রান্সফর্মার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই সেসব জেলার তিনটি ডিভিশনের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি সংখ্যক ট্রান্সফর্মার বসানো হবে। এক্ষেত্রে এখন অবশ্য বিদ্যুৎ দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। সবুজ সংকেত মিলতেই দ্রুত গতিতে সেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোমর বেঁধে মাঠে নামতেই ভিন্ন ঘটনাও প্রকাশ্যে আসছে। অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অন্ধকারে রেখে বহু উপভোক্তা মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুত্ ব্যবহার করছে। বিষয়টি দপ্তরের কর্তাদের নজরে আসতেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
Advertisement
বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, জেলাজুড়ে ক্রমশ বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। মূলত গ্রীষ্মকালেই সেই চাহিদা বেশি থাকে। বর্তমান সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ চাহিদা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে জেলার সিউড়ি, রামপুরহাট ও বোলপুর ডিভিশনে ট্রান্সফর্মার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৃথক তিনটি ডিভিশন মিলিয়ে প্রায় ১৩২টি নতুন ট্রান্সফর্মার বসানো হবে। বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের আশা, নতুন করে ট্রান্সফর্মার বসানো হলে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই মিটবে। সেইসঙ্গে লোডশেডিংয়ের সমস্যাতেও অনেকটা রাশ টানা সম্ভব হবে। স্বাভাবিকভাবেই আমজনতা অনেকটাই উপকৃত হবে। তবে বাস্তবে কতটা সুরাহা হবে, তা অবশ্য এখনই স্পষ্ট বলা সম্ভব নয়। জেলায় ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার জেরে ট্রান্সফর্মার সংখ্যা অপর্যাপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সাব-স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনাও শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে জেলায় সাব-স্টেশনের সংখ্যা ৩৯টি। আগামীতে ১০ এর অধিক সাব-স্টেশন তৈরির ভাবনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রথম ধাপে ট্রান্সফর্মার বসানোর কাজটি শেষ করতে চাইছে। পরবর্তীতে জেলার নয়া সাব-স্টেশন তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



