Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিদ্যুৎ সংযোগ নেই স্কুলে, তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়ুয়া থেকে শিক্ষকরা

বিদ্যুৎ সংযোগ নেই স্কুলে, তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়ুয়া থেকে শিক্ষকরা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুরারইয়ের রাজগ্রাম ভিলেজ প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি স্কুলে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। দুই স্কুল কর্তৃপক্ষেরই দাবি, বার বার আবেদন করা সত্ত্বেও মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে গ্রীষ্মকালে তীব্র দাবদাহে কষ্ট হয় পডুয়াদের। পড়াশোনাও ব্যাহত হয়। 
Advertisement
ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া পাথুরে এলাকা রাজগ্রাম। স্বাধীনতা লাভের সাত বছরের মাথায় এলাকায় গড়ে ওঠে রাজগ্রাম ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়। পডুয়ার সংখ্যা ভালোই। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ৩১০ জন। শিক্ষক শিক্ষিকা মিলিয়ে পাঁচজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন নিয়ে খুশি এলাকার মানুষ। এহেন স্কুলে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাখা, আলোর মুখ দেখেনি পডুয়ারা। এমনিতে গ্রীষ্মকালে বীরভূমে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করে। পাথুরে এই এলাকায় তাপমাত্রা আরও বেশি থাকে। স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরমে ক্লাসে বসে থাকা দায় হয়ে পড়ে। পডুয়ারা হাঁপিয়ে ওঠে। নাজেহাল হন শিক্ষক শিক্ষিকারাও। এই স্কুলেরই ছাত্র বর্তমান প্রধান শিক্ষক পতিতপাবন মাল বলেন, স্কুলের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে পাথর শিল্পাঞ্চলে যাওয়ার রেল লাইন। তবে এই লাইনে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চলে না। শুধু পাথর বোঝাই মালগাড়ি চলে। অন্যদিকে আম্ভুয়া গ্রাম হয়ে স্কুলে আসার রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে ফাঁকা জায়গায় থাকা স্কুলে বিদ্যুৎ আনতে দরকার ১৬-১৭টি খুঁটি। শুনেছি এই দু’টি কারণে নাকি স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ হচ্ছে না।
এদিকে ২০১০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আপার প্রাইমারি স্কুলের অনুমোদন মেলে। কিন্তু ভর্তি শুরু হয়েছে ২০১২ সাল থেকে। তারপর থেকে আমরা বিডিও, ইলেকট্রিক অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে কোটেশন জমা দিয়েছি। ইলেকট্রিক দপ্তর থেকে তদন্ত করে জানায়, রেল লাইন টপকে তাঁরা বিদ্যুতের কেবল আনতে পারছেন না। এদিকে আম্ভুয়া গ্রামের হাসপাতাল মোড়ের পর থেকে পুরোটাই ধান খেত। এদিকে বিদ্যুৎ আনতে অনেক খুঁটি দরকার। তাঁরা অনুমোদনের জন্য হেড অফিসে পাঠায়। কিন্তু আজও বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি। তিনি বলেন, অনেকে প্রাইমারি স্কুলে কম্পিউটার রয়েছে। এখানে কম্পিউটার দূরস্থান, পাখা চালানোরই উপায় নেই। বর্তমানে এই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম মিলিয়ে পডুয়ার সংখ্যা ২৩০। কিন্তু নিজস্ব বিল্ডিং বলতে একটি মাত্র ঘর। প্রাইমারি স্কুলের তিনটি ঘর ধার নিয়ে চলছে স্কুলটি। শিক্ষক বলতে প্রধান শিক্ষক অর্নিবাণ চৌধুরী একাই। তিনি বলেন, বহু সমস্যার মধ্য দিয়ে স্কুলটি চলছে। তার উপরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কম্পিউটার ক্লাস চালু করব তার উপায় নেই।
অভিভাবকরা বলেন, ভোটের সময় এই স্কুলে চারটি বুথ হয়। তখন যে কোনও উপায়ে স্কুলে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়। কিন্তু পডুয়া থেকে শিক্ষকরা গরমে তীব্র কষ্ট ভোগ করলেও স্থায়ী সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। 
যদিও মুরারই বিডিও বীরেন্দর অধিকারী বলেন, ভোটের সময়ে ওই স্কুলের বুথে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, সমস্যা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওখানে রেলের লাইনের তলায় একটি কালভার্ট রয়েছে। সেখান দিয়ে বিদ্যুতের কেবল স্কুল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। দ্রুত ওই স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যাবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ