সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় বিদ্যুৎ চুরি রুখতে রাতে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে দপ্তরের অফিসাররা। রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ চুরি করে সাবমার্সিবল চালিয়ে জল তোলা হচ্ছিল। হাতেনাতে ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন দপ্তরের অফিসাররা। এফআইআরও রুজু করা হয়। বিদ্যুৎ চুরি চলছিল ৯টি সাবমার্সিবল। বুধবার রাতে আচমকা চারটি জায়গায় হানা দিয়ে হাতেনাতে তাদের ধরা হয়। সাবমার্সিবলের মালিকদের ১৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। কাটোয়ার বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার রাহুল আগরওয়াল বলেন, আমরা রাতে অভিযান চালিয়ে চুরি করে চলা সাবমার্সিবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। থানায় এফআইআর করা হয়েছে। কাটোয়া মহকুমাজুড়ে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তাই বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কাটোয়া ডিভিশনের অধীনে পাঁচটি ব্লকেই বহু সাবমার্সিবল চলছে। মিটার দেওয়া সত্ত্বেও বহু মালিক রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ চুরি করে সাবমার্সিবল চালাচ্ছে। কেউ আবার ট্রান্সফরমার থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ চুরি করে মেশিনে জল তুলছে। আবার কেউ ট্রান্সফরমার থেকে মিটারে যাওয়ার তার ট্যাপ করে সরাসরি তা মেশিনে সংযোগ করছে। এতে বিদুতের খরচ বেশি হলেও আদায় হচ্ছে কম টাকা। তাতে ক্ষতির মুখে পড়ছিল সংস্থা। বৃহস্পতিবার এব্যাপারে কাটোয়া থানায় এফআইআর করা হয়। এদিন রাতে ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে কাটোয়ার স্টেশন ম্যানেজার প্রবাল রায় সহ অন্যান্য অফিসাররা অভিযান চালান। তাঁরা কাটোয়া-১ ব্লকের গাঁফুলিয়া-বাঁধমুড়ো মাঠে, শ্রীখণ্ড হাসপাতালের মাঠে, খাজুরডিহি অঞ্চলের নতুনগ্রামের মাঠে বিদ্যুৎ চুরি করে চালানো সাবমার্সিবল চিহ্নিত করেন। কদমপুকুরেও একটি সাবমার্সিবল চলছিল বিদ্যুৎ চুরি করে। মোট ১০টি জায়গায় হানা দিয়ে বিদ্যুৎ চুরি করে চলা ৯টি সাবমার্সিবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সংস্থার অফিসাররা। কাটোয়া মহকুমায় বোরো চাষ হয়। চাষিদের মূলত সাবমার্সিবলের জলের উপরেই ভরসা করতে হয়। অনেক সাবমার্সিবল মালিকের বহু টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। টাকা না মেটানোয় বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।



