Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বায়ুদূষণ রুখতে দিল্লির পর এবার  কলকাতায় চালু হচ্ছে গ্র্যাপ সিস্টেম

বায়ুদূষণ রুখতে দিল্লির পর এবার  কলকাতায় চালু হচ্ছে গ্র্যাপ সিস্টেম
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ বা ‘বায়ুদূষণ সূচক’ ‘খারাপ’ হলে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে? দিল্লির মতো কলকাতা সহ রাজ্যের প্রধান ছয় শহরে এবার ‘অ্যালার্মিং সিস্টেম’ চালু করছে ‘রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ’। এর নাম ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ (গ্র্যাপ)। 
Advertisement
সোমবার কলকাতা পুরসভার সঙ্গে পর্ষদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত, গ্র্যাপের আওতায় প্রতিদিন বায়ুদূষণ সূচকের অবনতির খতিয়ান নেওয়া হবে। সে হিসেব বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে। এবং বাতাসের মান ঠিক করতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা জানিয়ে দেবে পর্ষদ। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে সেই সংস্থা।
গ্র্যাপ সিস্টেম কী? পর্ষদ জানিয়েছে, সিস্টেম চার ভাগে বিভক্ত। দূষণ সূচক যখন প্রথম ধাপে ‘খারাপ’ (২০১ থেকে ৩০০) থাকবে, তখন রাস্তা, গাছপালা এবং বাতাসে জল স্প্রে করতে হবে। নির্মাণকার্যের ক্ষেত্রেও অবলম্বন করতে হবে সাবধানতা। দ্বিতীয় ধাপ-‘খুব খারাপ’ (৩০০-৪০০)। তখন ডিজেল চালিত জেনারেটর বন্ধ রাখতে বলা হবে কর্তৃপক্ষকে। প্রয়োজনে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও কম করতে হবে। তৃতীয় ধাপে সূচক ‘মারাত্মক’ (৪০০-৪৫০) হলে শহরাঞ্চলের নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বন্ধ রাখতে থাকবে ইট ভাটা, হটমিক্স প্লান্ট, স্টোন ক্র্যাসার। চতুর্থ ধাপে বাতাসের মান ‘ভয়ংকর বা ইমারজেন্সি’ (৪৫০ বেশি) হলে, অড-ইভেন পদ্ধতিতে অর্থাৎ জোড়-বিজোড় সংখ্যায় গাড়ি চলাচল করবে। বন্ধ করতে হবে স্কুল। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘বায়ু দূষণ সূচক যখন যেমন থাকবে, তখন তেমন পদক্ষেপের প্রয়োজন। একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে পুরসভা, পুলিস, শিক্ষা-শিল্প-পরিবহণ দপ্তর সহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কাছে যাবে অ্যালার্ট। কি পদক্ষেপের প্রয়োজন তা জানানো হবে কর্তৃপক্ষকে।’ 
প্রসঙ্গত বর্তমান ব্যবস্থায় দিল্লি সহ হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের একাধিক শহরে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এদিনের বৈঠকে ডিজেল-কেরোসিন মিশ্রিত কাটা তেলে চলা ভ্যান এবং কোনও জিনিস পোড়ানো বন্ধ করতে লালবাজারকে কড়া পদক্ষেপ নিতে আবেদন জানান ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, বোস ইনস্টিটিউট তার একটি ওয়ার্ড ভিত্তিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, শহরের ২০ জায়গায় বসবে রিমোট সেন্সিং ডিভাইস। কোন গাড়ি দূষণ ছড়াচ্ছে, খারাপ ধোঁয়া বেরচ্ছে সেই যন্ত্রে তা অনায়াসে ধরা পড়বে।
সম্পর্কিত সংবাদ