Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

বধূ নির্যাতন আইনের অপব্যবহার হচ্ছে, অভিযোগ এলেই ফৌজদারি মামলা নয় 

বধূ নির্যাতন আইনের অপব্যবহার হচ্ছে, অভিযোগ এলেই ফৌজদারি মামলা নয় 
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টা আগেই বধূ নির্যাতন মামলায় হেনস্তার শিকার হয়ে বেঙ্গালুরুতে আত্মহত্যা করেছেন এক তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী। লিখে গিয়েছেন ৪৪ পাতার সুইসাইড নোট। সঙ্গে ৮০ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা। তার ছত্রে ছত্রে স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের হুমকি-তোলাবাজির বিবরণ। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। তার মধ্যেই এবার বধূ নির্যাতন আইনের অপব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা এল খোদ সুপ্রিম কোর্টের তরফে। মঙ্গলবার একটি মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ—শ্বশুরবাড়িতে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ (এ) ধারার। কিন্তু, আদতে প্রায়শই স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে অপব্যবহার করা হচ্ছে এই আইনের। তাই দাম্পত্য কলহ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে আদালতগুলিকে আরও সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানাল বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ। যাতে আইনের অপব্যবহারের কারণে কোনও নিরাপরাধ মানুষকে বিপাকে পড়তে না হয়। পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ ছাড়াই বধূ নির্যাতন সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় পরিবারের সদস্যদের নাম জুড়ে দেওয়া হয়। যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকলে সেই প্রবণতাকে অঙ্কুরেই বিনাশ করতে হবে। অর্থাৎ প্রমাণ ছাড়া ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। 
Advertisement
সুপ্রিম কোর্টের মামলাটি অবশ্য পুরনো। কারণ, ৪৯৮ (এ) ধারাটিই আর নেই। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৮৬ নম্বর ধারাটি এখন বধূ নির্যাতন সংক্রান্ত। শীর্ষ আদালত সূত্রে খবর, পণের দাবিতে বধূ নির্যাতনের মামলা খারিজের আর্জি জানিয়ে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার। মঙ্গলবার বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ছিল। বিচারপতিদ্বয় সাফ জানিয়েছেন, ‘এফআইআর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, স্ত্রীর অভিযোগ অস্পষ্ট। তাছাড়া, কোনও কারণ ছাড়াই বেশ কয়েকজনকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।’ দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে হওয়া ওই মামলা খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। 
সোমবার অতুলের আত্মহত্যার খবর ও তাঁর শেষ ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসে। তারপরই গার্হস্থ্য হিংসা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছে ইন্টারনেট দুনিয়া। তার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দুই বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এসংক্রান্ত আইনের মূল লক্ষ্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের অত্যাচার থেকে মহিলাদের সুরক্ষিত রাখা।
বিগত কয়েক বছরে দেশজুড়ে দাম্পত্যকলহের মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে এই ধারার অপব্যবহারের প্রবণতাও। 
সম্পর্কিত সংবাদ