Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ এক চাষির

বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ এক চাষির
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, মানকর: জোর করে জমির ধান নষ্ট ও প্রাণে মারার হুমকির অভিযোগ উঠল গলসি-১ ব্লকের বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডুর বিরুদ্ধে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার শুকডালের বাসিন্দা সঞ্জয় ভগত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে রুদ্রপ্রসাদ বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমি এলাকার সকলের উপপ্রধান। ওঁর একার জমি নয়, পঞ্চায়েতে ওঁর দাদাও আবেদন করেছেন। আমরাও চিঠি পাঠিয়েছি। আমি ধানের চারা তোলা বা এসব কিছু করিনি।
Advertisement
সঞ্জয় অভিযোগ করে জানান, পারিবারিক সূত্রে পাওয়া একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাষ করছেন। গত শুক্রবার জমিতে ধান পোঁতার সময় তাঁর এক ভাইকে নিয়ে উপপ্রধান জমিতে হাজির হন। পোঁতা ধানের চারা তুলে ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে তাঁকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। খেটে খাওয়া লোক। থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু অভিযোগ নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী, পুলিস কমিশনার সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি। উপপ্রধান হুমকি দিয়েছেন। আমরা এতে আতঙ্কিত। ঘর থেকে বেরতে পারছি না। আমার উপর কেন এই অত্যাচার বুঝতে পারছি না। ইতিমধ্যেই ২ একর জমিতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর মাত্র দিন দশেক সময় রয়েছে। আমি আবেদন করেছি, যাতে আমাকে চাষ করতে দেওয়া হয়। 
ইতিমধ্যেই উপপ্রধানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। সেখানে দেখা যায়, উপপ্রধান হুমকির সুরে বলছেন, তোমাকে কী করতে পারি জানো না। আমাকে উত্তেজিত কোরো না। সঞ্জয় ভগতের স্ত্রী মিনু ভগত বলেন, উনি সেদিন ধমকে কথা বলছিলেন। আমরা হাতজোড় করে অনুরোধ জানালেও লাভ হয়নি। স্বামী কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। এখন আতঙ্কে রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করি সুরাহা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী বলেন, বুদবুদ এলাকায় উপপ্রধানের শাসন চলে। মানুষের মনে একটা ভীতির সঞ্চার হয়েছে। শাসকদলের এই নেতা অত্যাচার করতে করতে চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন। কিছুদিন আগে একজন সেনা আধিকারিকের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওই চাষিরা কয়েকজন ভাই। সম্পত্তি নিয়ে ভাগাভাগি হয়নি। এক ভাই পঞ্চায়েতে অভিযোগ করেছিলেন। প্রধান সব পক্ষকেই ডেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মিটিমাট না হওয়া পর্যন্ত চাষ করা যাবে না। কিন্তু এক ভাই তারপরেও চাষ করতে গেলে এই পরিস্থিতি হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ