Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

বাছাই শর্তেই ঝুলে ২৬ হাজার চাকরি, অযোগ্যদের ছেঁটে ফেলতে এসএসসিকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বাছাই শর্তেই ঝুলে ২৬ হাজার চাকরি, অযোগ্যদের ছেঁটে ফেলতে এসএসসিকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি,  নয়াদিল্লি: মাঝে এক ঘণ্টার মধ্যাহ্নভোজের বিরতি। ওই সময়টুকু ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩৪ থেকে বিকাল ৪টে ০৩ মিনিট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে টানা শুনানি চলল ২৬ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য নিয়ে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে রাজ্য সরকার। দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে চলছে শুনানি। সেখানেই শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করতে হবে এসএসসিকে। তা না হলে বাতিল হবে পুরো প্যানেল। আগামী ৭ জানুয়ারি ফের শুনানি। অর্থাৎ, ভাগ্যপরীক্ষা।
Advertisement
এর মাঝে বাছাই শর্তেই উদ্বেগ বাড়ছে প্রার্থীদের। কারণ, সুপ্রিম কোর্টও যদি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় বহাল রাখে, তাহলে বেআইনিভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের পাশাপাশি যোগ্য শিক্ষকরাও চাকরিহারা হবেন। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে এদিন সর্বোচ্চ আদালতে রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক পর্ষদ মেনে নিলেও এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সওয়াল উঠেছে, ৪,২৭৩ প্রার্থিপদে অনিয়মের কারণে কেন পুরো প্যানেল বাতিল হবে? আবার চাকরি হারাতে বসা একাংশের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন এবং জয়দীপ মজুমদারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘সিবিআইয়ের বাজেয়াপ্ত করা যে স্ক্যানড ওএমআর শিটের ভিত্তিতে বাতিলের তোড়জোড়, সেটাই যে আসল... তার প্রমাণ কোথায়? এসএসসির কাছে তো আসল ডেটাই নেই। নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে স্ক্যানড কপি মেলানো হবে কীভাবে?’ এই প্রশ্নই এসএসসির কাছে রাখেন প্রধান বিচারপতি। বলেন, ‘কেন নিজের কাছে তথ্য রাখেননি? তাহলে তো আর সিবিআইয়ের বাজেয়াপ্ত করা স্ক্যানড কপি নিয়ে বিতর্ক থাকত না!’ জবাবে কমিশনের আ‌‌ইনজীবী জানান, ‘নিয়ম মেনেই নষ্ট হয়েছে। এক বছর ডেটা রাখাটাই নিয়ম।’
অর্থাৎ, মামলার জটিলতা কাটল না। উল্টে পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করলেন, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়? ইয়া পুরা ডালই কালা?’ প্রশ্ন করলেন, ‘অনিয়ম হয়েছে মেনে তো নিচ্ছেন! কিন্তু যোগ্য-অযোগ্য বাছতে পারবেন?’ রাজ্যের আ‌ইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী স্পষ্ট জবাব দিলেন না। তবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত জানিয়ে দিলেন, ‘সময় সাপেক্ষ। তবে বাছাই সম্ভব। নাম ধরে ধরে দেখলেই হবে।’ যদিও আপত্তি করলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি—এই দাবি তোলা প্রার্থীদের আইনজীবী তিনি। বললেন, ‘এই করেই সময় পার করতে চাইছে রাজ্য, কমিশন।’ তবে আবেদনকারী঩দের আ‌ইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি, কপিল সিবালদের আর্জি, অযোগ্যদের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালত ব্যবস্থা নিন। কিন্তু যোগ্যদের বিরুদ্ধে নয়।
এরইমধ্যে স্বস্তি শুধু ‘ইন সার্ভিস’ শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের। এমন শিক্ষকের সংখ্যা ৪২৩ জন। প্রধান বিচারপতি জানান, ‘আপনাদের এই অনিয়মের বাইরে রাখা হবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ