নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: একোয়া, চাঁড়াল কুনকি বা রানি ঢুই, সাহানিয়া গুন্ডা, লোকড়া গুন্ডা, খুনিয়া, মাকনা, মালজুরিয়া সহ হাতির স্বভাব-প্রকৃতি দেখে কতই না নাম রেখেছে মানুষ। হাতির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো অভিজ্ঞ মানুষেরা জানেন, জঙ্গলে যূথবদ্ধ হাতিকে নিয়ে তেমন সমস্যা নেই। তারা একই পথে চলাচল করে। কিন্তু সভ্যতার করাল গ্রাসে তাদের চলার পথে বসতি গড়ে ওঠার কারণেই মানুষের সঙ্গে সংঘাত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা মালজুরিয়া গ্রুপ ও একোয়া হাতিদের নিয়ে। ডুয়ার্সে এই মালজুরিয়া গ্রুপের হাতির সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। দলে বেড়ে ওঠা পুরুষ হাতি কিছুটা বড় হলে বেরিয়ে যায়। এমন দল ছেড়ে বেরিয়ে আসা দু’তিনটি পুরুষ ও স্ত্রী হাতি যখন এক সঙ্গে কোনও এলাকায় ঘুরতে থাকে তাদের বলা হয় মালজুরিয়া গ্রুপ। এদের মেজাজ আঁচ করা শক্ত। যখন তখন আক্রমণ করে বসে। যে কোনও এলাকায় বেরিয়ে পড়ে। একোয়া বা লোনার (একাকি) হাতিও সাংঘাতিক! এই হাতির সংখ্যাও বাড়ছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
Advertisement
হিমালয়ান নেচার অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের (ন্যাফ) প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অনিমেষ বসুর কথায়, বন্যপ্রাণীদের মধ্যে মানুষের সঙ্গে সব থেকে বেশি সংঘাত হয় হাতির সঙ্গে। হাতি পরিযায়ী প্রাণী। দৈহিক ও জৈবিক কারণে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যেতেই হয়। এই যাত্রা পথেই যত সমস্যা। আগে জঙ্গলগুলি নিরবিচ্ছিন্ন ছিল। উত্তরবঙ্গে জঙ্গল কেটে বসবাস বেড়েছে। টুকরো টুকরো হয়েছে জঙ্গল। হাতি বাধ্য হয়ে পুরনো করিডর ছেড়ে অন্য জায়গা দিয়ে হাঁটা শুরু করেছে। গ্রামে প্রায়ই হাতি ঢুকছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। হাতিও আহত হচ্ছে।
ধান ও ভুট্টা হাতির অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। হাতি সে সব খেতে গ্রাম পেরিয়ে বের হচ্ছে। বাইরে থেকে আসা মানুষের সঙ্গে হাতির কিন্তু সেভাবে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। নেপালের দিকে হাতি চলে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক তার লাগানো হয়েছিল। নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ির মতো এলাকায় হাতি নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না। সেখানেও এবার হাতির হামলায় মানুষ মারা যাচ্ছে।
এই সংঘাত রুখতে শুধু মাত্র বনদপ্তর, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসলেই হবে না। মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক দল তথা সরকারকেও।
ধান ও ভুট্টা হাতির অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। হাতি সে সব খেতে গ্রাম পেরিয়ে বের হচ্ছে। বাইরে থেকে আসা মানুষের সঙ্গে হাতির কিন্তু সেভাবে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। নেপালের দিকে হাতি চলে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক তার লাগানো হয়েছিল। নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ির মতো এলাকায় হাতি নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না। সেখানেও এবার হাতির হামলায় মানুষ মারা যাচ্ছে।
এই সংঘাত রুখতে শুধু মাত্র বনদপ্তর, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসলেই হবে না। মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক দল তথা সরকারকেও।



