Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবলা নদীপাড়ের মাটি বিনা বাধায় কেটে লুটতরাজ মাফিয়াদের, বিপজ্জনক ভাঙন

বাবলা নদীপাড়ের মাটি বিনা বাধায় কেটে লুটতরাজ মাফিয়াদের, বিপজ্জনক ভাঙন
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের মৌগ্রামের রতনপুর গ্রামে বাবলা নদীর পাড়ের জমি থেকে মাটি লুট করছে মাফিয়ারা। দিনের পর দিন তারা কৃষিজমি সাবাড় করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। নদীর পাড় লাগোয়া জমি বিপজ্জনকভাবে জেসিবি দিয়ে কেটে মাটি লুট করা হচ্ছে। বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলেই কারবারিদের কাছ থেকে জুটছে হুমকি। ট্রাক্টরে বাবলা নদীর পাড়ের জমির মাটি চড়া দামে বিক্রিও করা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে ও  ভাঙন বাড়ছে। মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।  তবুও প্রশাসন নির্বিকার। 
Advertisement
মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা এক্কেবারে সত্যি কথা। তবে কারা কাটছে, আমরা জানি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব বিষয়টা। এতে এলাকায় মারাত্মক ক্ষতি হবে। 
কেতুগ্রামের মৌগ্রাম অঞ্চল ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী ও বাবলা নদী। মৌগ্রাম অঞ্চলের শেষ গ্রাম রতনপুর। তারপরেই সীতাহাটি  অঞ্চলের  শুরু। রতনপুরে প্রায় ১৫০ ঘর রয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা বেশিরভাগই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখানে বাবলা নদীর পাড়ের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে মাফিয়ারা। এক্কেবারে নদীর কোল ঘেঁষে মাটি কাটা হচ্ছে। কখনও কৃষকদের কাছে চাষাবাদ করার নামে জমি কিনে নিচ্ছে মাফিয়ারা, তারপরেই ভোর রাতে সেখানে জেসিবি নামিয়ে মাটি কেটে লুট করছে। আবার কখনও কৃষককে না জানিয়েই নদীর পলিমাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নৌকা করে ভাগীরথীর মাঝে চর থেকে সাদা পলিমাটিও লুটতরাজ চলছে। সেই মাটি পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও মুর্শিদাবাদ জেলার সালার এলাকায় মাটি পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ‘দাদা’র নামে বাবলা নদীর পাড়ের মাটি কাটার অভিযোগ করছেন গ্রামের বাসিন্দারা। তাতে নদী ও পাড় সমান হয়ে গিয়েছে। তাই বর্ষাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিস প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমনটা ঘটছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁদের প্রশ্ন, কাদের প্রশ্রয়ে মাফিয়ারা এভাবে নির্বিচারে মাটি লুট করে চলেছে। এতে নদীপাড়ের ভাঙন ঘটছে। বহু মানুষ ভিটে ছাড়া হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বালি, মাটি লুট নিয়ে পুলিস প্রশাসনকে নজরদারি বাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। তবুও সব দেখে নিশ্চুপ পুলিস প্রশাসন। 
স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম হালদার বলেন, কৃষিজমি থেকে যেভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, তাতে বর্ষাকালে নদীতে জল বাড়লে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। রতনপুর মৌজায় বাবলার পাড়ের মাটি ইটভাটাগুলিতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ভিন জেলার কয়েকজন এখানে ইটভাটা করেছে। অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় থেকে মাটির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। 
এছাড়া সীতাহাটি অঞ্চলের শিলুড়ি গ্রামেরও একই অবস্থা। সেখানেও ভাগীরথীর পাড়ের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সেচদপ্তরের উচ্চপদস্থ অফিসাররা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনও করে গিয়েছেন। কিন্তু যেভাবে নদীপাড়ের মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে ভাঙন রোধে সামাল দেওয়া মুশকিল। তবুও মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে এলাকায় দিনের পর দিন নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। ট্রাক্টর পিছু এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে মাটি। বাসিন্দাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো পুলিস ও প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ করুক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ