Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিভিন্ন জেলায় শ্যুটআউটের ঘটনা সতর্ক বীরভূম, জেলায় পুলিসি অভিযান, আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ৪  

বিভিন্ন জেলায় শ্যুটআউটের ঘটনা সতর্ক বীরভূম, জেলায় পুলিসি অভিযান, আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ৪
 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মালদা থেকে মুর্শিদাবাদ। একের পর এক শ্যুটআউটের ঘটনায় সতর্ক হল বীরভূম জেলা পুলিস। নতুন পুলিস সুপারের নির্দেশে অপরাধ দমনে তৎপর হল জেলার সমস্ত থানা। জেলাজুড়ে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার রাত থেকেই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। তাতেই মল্লারপুর, মাড়গ্রাম, ময়ূরেশ্বর ও রামপুরহাটে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হল চার দুষ্কৃতী। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে দেশি পাইপ গান ও কার্তুজ। 
Advertisement
সম্প্রতি ইংরেজবাজার পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার দুলাল সরকারকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তার কয়েকদিনের মাথায় গুলিবিদ্ধ হন কালিয়াচকের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বকুল শেখ ও আরও এক তৃণমূল কর্মী এসারুউদ্দিন শেখ। যার জেরে সেখানকার পুলিস প্রশাসনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে সপ্তাহ খানেক আগে মুর্শিদবাদে গুলিবিদ্ধ হন এক যুবক। বুধবারও ইসলামপুরে দুই পুলিস কর্মীকে গুলি করে ফেরার হয় বন্দি। একের ‌পর এক শ্যুটআউটের ঘটনা পুলিস প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। 
শুধু ভিন জেলায় নয়, গত ২২ মে ময়ূরেশ্বরে গুলি করে খুন করা হয় এক পেট্রল পাম্প মালিককে। রামপুরহাট বগটুই মোড়ে উপপ্রধান ভাদু শেখকে বোমা মেরে খুন করা হলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেছে দুষ্কৃতীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রর দেখা মিলেছে। গত বছরের ১৩ জুন মাড়গ্রামে প্রকাশ্যে দিবালোকে জনবহুল রাস্তায় গুলি করে এক ধান ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। গত ২১ আগষ্ট  মহম্মদবাজারে এক খাদান ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে মল্লারপুরে শ্বশুরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জামাই। এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনায় দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে।
এদিকে দু’দিন হল বীরভূম জেলায় নতুন পুলিস সুপার হিসাবে যোগ দিয়েছেন আমনদীপ। তিনি জেলা জুড়ে অপরাধ দমনে পদক্ষেপ করেছেন। বেআইনি মজুত অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারের জন্য প্রতিটি থানাকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই বীরভূম জেলায় অস্ত্র সহ ধরা পড়তে শুরু করেছে দুষ্কৃতীরা।  
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে মাড়গ্রামের সুরফুলা মোড় থেকে অস্ত্র সহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃত কামরুজ্জামানের ওরফে মোদির বাড়ি নলহাটির সরধা গ্রামে। তার কাছ থেকে একটি দেশি পাইপগান ও দু’রাউণ্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়। ময়ূরেশ্বর থানার পুলিস সাহিল শেখ নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকেও দেশি পাইপগান ও দু’রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়। অন্যদিকে একই রাতে সাতবেরিয়া মোড় থেকে নবী শেখ নামে এক দুষ্কৃতীকে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি মল্লারপুরের গছিগড়িয়া গ্রামে। তার কাছ থেকেও পাইপগান ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া রানিগঞ্জ মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের রামপুরহাট থানার চাকপাড়া গ্রাম থেকে রহমত আলি নামে এক দুষ্কৃতীকে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থানার সরধা গ্রামে। তার কাছ থেকে একটি দেশি পাইপ গান উদ্ধার হয়েছে।  
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে বিহারের মুঙ্গের থেকে বাংলায় অস্ত্র আমদানি চলত। এখন মুঙ্গেরের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন কামারশালায় তৈরি হচ্ছে পাইপগান। মুঙ্গের থেকে কারিগর এনে ঝাড়খণ্ডের দুমকায় একই ধাঁচে তৈরি করা হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। মুঙ্গেরের তুলনায় ঝাড়খণ্ডে তৈরি পাইপগানের দাম কম হওয়ায় চাহিদা রয়েছে। ১০-১২ হাজারের মধ্যেই মেলে পাইপগান। বীরভূম থেকে মুঙ্গেরের তুলনায় ঝাড়খণ্ডের দুরত্ব কম। অন্যদিকে ঝুঁকি ও দাম দুটোই কম। রাজ্যের অন্যান্য জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ঝাড়খণ্ড সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা রয়েছে বীরভূমেই। দু‌ই রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তায় পুলিসি নজরদারি চললেও বিস্তীর্ণ এলাকার কোথাও জঙ্গল, কোথাও গ্রাম। সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে পাচারকারীরা। আর এতেই বীরভূম জুড়ে আগ্নেয়াস্ত্রের রমরমা বাড়ছে। - ফাইল চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ