Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

শেষ চারে অ্যাওয়ে ম্যাচে হেরেও প্রত্যয়ী বায়ার্ন মিউনিখ, ৯ গোলের থ্রিলারে দুরন্ত জয় পিএসজি’র

ম্যাচের শুরুতে গ্যালারিতে এক বিশাল টিফো।

শেষ চারে অ্যাওয়ে ম্যাচে হেরেও প্রত্যয়ী বায়ার্ন মিউনিখ, ৯ গোলের থ্রিলারে দুরন্ত জয় পিএসজি’র
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিএসজি- ৫              :          বায়ার্ন মিউনিখ- ৪

Advertisement

প্যারিস: ম্যাচের শুরুতে গ্যালারিতে এক বিশাল টিফো। তাতে ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে বার্তা, ‘জীবন উজাড় করে দাও’। মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে সত্যিই নিজেদের উজাড় করে দিলেন দু’দলের ফুটবলাররা। পার্ক দ্য প্রিন্সেসে ৯ গোলের থ্রিলারে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। পরতে পরতে উত্তেজনা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে করতালির বন্যা। মাঠে হাজির প্রতিটি সমর্থক উঠে দাঁড়িয়ে দুই দলকেই অভিবাদন জানালেন। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫-৪ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ল পিএসজি। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে একটা সময় ২-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দু’গোল পরিশোধের লড়াই ফিরতি লেগের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বায়ার্ন মিউনিখকে। ম্যাচে ফরাসি ক্লাবটির হয়ে জোড়া গোল খাভিচা কাভারাৎস্কেলিয়া ও ওসুমানে ডেম্বেলের। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তোলেন হোয়াও নাভাস। বায়ার্নের চার গোলদাতা যথাক্রমে হ্যারি কেন, মাইকেল ওলিসে, দায়োত উপামেকানো ও লুইস ডিয়াজ। ৬ মে ফিরতি পর্বে অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় মুখোমুখি হবে দু’দল। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে ঘরের মাঠে দু’গোলের ব্যবধানে জিততে হবে বায়ার্নকে। এক গোলে জিততে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। আর ‘ব্যাক টু ব্যাক’ শিরোপা জয়ের আশা জিইয়ে রাখতে পিএসজি’র প্রয়োজন শুধুই ড্র।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে বরাবর পিএসজি’কে টেক্কা দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার আরও একবার বিপক্ষের ডেরায় শুরু থেকেই ঝড় তোলে জার্মান ক্লাবটি। লিডও মেলে মাত্র ১৭ মিনিটে। বক্সের মধ্যে লুইস ডিয়াজকে ফাউল করতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় জাল কাঁপান হ্যারি কেন (১-০)। মিনিট তিনেক বাদেই ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ওলিসে। এই পর্বে বায়ার্নের পাল্লা ভারি থাকলেও ২৪ মিনিটে একক দক্ষতায় দুরন্ত গোলে পিএসজি’কে লড়াইয়ে ফেরান খাভিচা। বাঁদিক থেকে গতি বাড়িয়ে বক্সের মধ্যে আক্রমণে উঠে আড়াআড়ি শটে জাল কাঁপান এই জর্জিয়ান উইঙ্গার (১-১)। ৩৩ মিনিটে লিড নেয় প্যারিসে ক্লাবটি। কর্নার থেকে ডেম্বেলের ভাসানো সেন্টারে হেড হোয়াও নাভাসের (২-১)।
চলতি মরশুমে পিএসজি’র রক্ষণকে বেশ নড়বড়ে লেগেছে। মার্কুইনহোস-নুনো মেন্ডিসদের খুব সহজেই টেক্কা দিয়েছেন বিপক্ষের ফুটবলাররা। এদিনও তার কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। ৪১ মিনিটে খুব সহজেই চার পিএসজি ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে জাল কাঁপান ওলিসে (২-২)। বিরতির ঠিক আগেই ফের একবার লিড নেয় পিএসজি। এবার স্পটকিক থেকে জাল কাঁপান ডেম্বেলে (৩-২)। দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক দেখায় এনরিকে ব্রিগেডকে। সেই চাপের মুখে কার্যত আত্মসমর্পণ করেন বায়ার্ন ডিফেন্ডাররা। ৫৬ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয়বার জাল কাঁপান খাভিচা (৪-২)। আর দু’মিনিট বাদে ব্যবধান ৫-২ করেন ডেম্বেলে। এই পর্বে মনে হয়েছিল, সহজেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে পিএসজি। তবে নিজেদের ব্যর্থতায় বিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেন এনরিকের ছেলেরা। ৬৫ মিনিটে হেডে জাল কাঁপান উপামেকানো (৫-৩)। আর তিন মিনিট বাদে দুরন্ত গোলে ৫-৪ করেন লুইস ডিয়াজ।

সম্পর্কিত সংবাদ