সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার পর বারাকপুরে এসে থাকতে শুরু করে দাশগুপ্ত পরিবার। যশোরের বড়কালিয়া গ্রামে তাঁরা থাকতেন। এই পরিবারেরই সদস্য ছিলেন মাখনলাল, অমূল্য, নরেশ, সন্তোষরা। বাংলাদেশের ওই গ্রামের নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বারাকপুরের এই পাড়ার নাম কালিয়ানিবাস রেখেছিলেন মাখনলাল দাশগুপ্ত। এই এলাকাটি বারাকপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। আর বাড়ির নাম আশুতোষ ভবন। এখানে গত ৭০ বছর ধরে তন্ত্র মতে দেবী দুর্গার আরাধনা হয়। প্রতিমা একচালার।
দাশগুপ্ত পরিবারের পুজোর বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি। সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে এই পুজো শুরু হয় অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামের দাশগুপ্ত পরিবারে। এই পুজোর সূচনা করেন নরহরি কবীন্দ্র বিশ্বাস। তাঁর আসল নাম ছিল নরহরি দাশগুপ্ত। তিনি তন্ত্র সাধনা করতেন। পরে কবীন্দ্র বিশ্বাস উপাধি পেয়েছিলেন। কথিত আছে, তিনি কামাক্ষা মন্দিরে বালিকা বেশে মাকে দেখেছিলেন। মায়ের আদেশে পুজো শুরু করেছিলেন খুলনার গ্রামে। তবে বর্গির হানার জন্য সেই পুজো বন্ধ হয়ে যায়, পরে ফের শুরু হয় যশোরের বড়কালিয়া গ্রামে। নরহরি দাশগুপ্তের প্রপৌত্র মধুসূদন দাশগুপ্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে চালু করেছিলেন দেবীর পুজো। ঠাঁইনাড়া হওয়ার পর যা এখনও চলছে বারাকপুরের আশুতোষ ভবনে।
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পুজোর দিনগুলিতে পাঁচ রকমের মাছ রুই, কাতলা, ইলিশ, চিংড়ি, কই— রান্না করে মাকে ভোগ দেওয়া হয়। দশমীতে কচু শাক, পান্তা ভাতের সঙ্গে রুই মাছের লেজা দেওয়া হয়। তারপর দেবীকে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পুজো হয় তন্ত্র মতে। প্রতিদিনই ছাগ বলি হয়।
এই পরিবারের বর্তমান সদস্য তাপস দাশগুপ্ত বলেন, পরম্পরা মেনেই পুজো হয় এই বাড়িতে। এই পুজোর বয়স পাঁচশো বছরের উপর। খুলনা, যশোর হয়ে শেষমেশ বারাকপুরে এসে মা স্থায়ী হয়েছেন। মাকে অন্ন ভোগে দেওয়া হয় সাদা ভাত আর পাঁচ রকমের মাছ। রাত ৯টায় ভোগ দেওয়া হয় মাকে। আমাদের পূর্বপুরুষ নরহরি কবীন্দ্র বিশ্বাস মাতৃ দর্শন করেছিলেন। সেই নির্দেশ ও নিয়ম মেনে এখনও পুজো হয়ে আসছে। জন্মাষ্টমীর দিন আমাদের কাঠামো পুজো হয়। তারপর বাড়িতেই প্রতিমা তৈরি হয়। এখন সেই কাজ শেষ পর্যায়ে। বহু পুজো দেখতে আসেন। নিজস্ব চিত্র