নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গণেশ পুজোর রাতে পুলিশ লাইন বাজারের রাস্তা জমজমাট। যুবক, যুবতীরা রেস্তরাঁয় ভিড় করছেন। অন্যান্য দিনও রাত ১০’টাতে শহরের রাস্তায় নির্ভয়ে মেয়েরা ঘুরে বেড়ায়। উৎসবের রাতে ভিড়টা ছিল একটু বেশিই। তারপরও ইভটিজারদের পাল্লায় পড়েন দুই যুবতী। বাইকে তিন যুবক এসে তাঁদের উত্ত্যক্ত করতে থাকে। প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরে ইভিটিজাররা তাঁদের গা ঘেঁষে বাইক চালানোর চেষ্টা করলে রুখে দাঁড়ান দুই যুবতী। বাইক দাঁড় করিয়ে তাঁরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। ততক্ষণে রাস্তায় লোকজন জমে গিয়েছে। খবর যায় পুলিশের কাছেও। তারা ইভটিজারদের থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ইভটিজারদের বাড়ি কুরমুন এলাকায়। তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মদ, গাঁজার ঠেক ভাঙতে বিশেষ অভিযান হয়েছে। রাতের দিকে পুলিশ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চেকিং করছে। তারপরও যারা বেপরোয়া ভাবে বাইক চালাচ্ছ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ধমান শহরে বাইক বাহিনীর দৌরাত্ম্য বেড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই উল্লাস, গোলাপবাগ, শক্তিগড় সহ বিভিন্ন এলাকায় তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্টান্টবাজি করতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। মদ্যপ অবস্থাতেও অনেকেই বেপরোয়া ভাবে বাইক চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মাঝে কিছুদিন বাইক চালকদের দাঁড় করিয়ে চেকিং করা হচ্ছিল। বিশেষ করে কেউ মদ্যাপ অবস্থায় বাইক চালালে তাদের বিরুদ্ধে কেস দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এখন পুলিশের সেই তৎপরতা না থাকায় বাইক বাহিনীর দাপট বেড়েছে। বর্ধমানের বাসিন্দা অনুপম ঘোষ বলেন, কয়েক দিন আগে মদ্যপ অবস্থায় এক বাইক চালক এসে দু’জনকে ধাক্কা দেয়। চালক ঠিক মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। ওই অবস্থাতেই ফের বাইক চালিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যায়। অনেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ইভটিজিং করছে। আগে এমনটা কিন্তু ছিল না।
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, পুলিশ লাইন সব সময় জমজমাট থাকে। সেখানে ইভটিজারদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। শহরে প্রায়দিনই চুরি হচ্ছে। বিজেপি নেতা অনীশ দাস বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ পদক্ষেপ নিচ্ছে। উল্লাস-সহ বিভিন্ন জায়গায় হামশাই অভিযান চলে। গাঁজা, মদের ঠেক পুলিশ ভাঙছে। আগে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নেশার আসর বসত।