নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতে ওভারব্রিজ বন্ধ থাকায় গত কয়েকদিন ধরেই যানজটে নাকাল নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের এই ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমল বুধবার সন্ধ্যায়। এদিন ওই ওভারব্রিজ সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্রিজ খুললেও যানজট পুরোপুরি কাটবে না বলেই আশঙ্কা। কারণ, এই সেতু মেরামতি হলেও চাঁপাডালি ওভারব্রিজ দিয়ে লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। একইভাবে দূরপাল্লার বাসও এই ব্রিজ ব্যবহার করতে পারবে না। বড়ো ও ভারী যান যাতে ব্রিজে উঠতে না পারে, তার জন্য দু’প্রান্তে বসানো হয়েছে হাইটবার। ফলে লরি এবং দূরপাল্লার বাসকে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হবে। সেই বাড়তি গাড়ির চাপ সরাসরি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ও যশোর রোডে এসে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সারাদিনই গাড়ির চাপ থাকে। তার উপর ব্রিজে ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা নিত্যযাত্রীদের।
জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ফ্লাইওভার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, যশোর রোড, কেএনসি রোড, ডাকবাংলো মোড় এবং চাঁপাডালি মোড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা গিয়েছে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পার হতেই লেগেছে দীর্ঘ সময়। স্কুল পড়ুয়া, অফিসযাত্রী, রোগী থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে টোটো নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তরফে একাধিক উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রভাব নেই। এনিয়ে বারাসত জেলা পুলিশের ডিএসপি (ট্রাফিক) নীহাররঞ্জন রায় বলেন, মূলত ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বেশি সময় লাগে। আপাতত দূরপাল্লার বাস বা লরি ওভারব্রিজ দিয়ে চলাচল করবে না। সাধারণ বাস বা ছোটো গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে।
আগামী দিনে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং যশোর রোডে বাড়তি যানবাহনের চাপ ট্রাফিক পুলিশ কীভাবে সামলায়, সেটাই এখন দেখার। ব্রিজ খুলে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরল, নাকি নতুন করে যানজটের বোঝা চাপবে শহরের দুই প্রধান সড়কের উপর, সেদিকেই নজর বারাসতবাসীর।