Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুম্বইয়ে বড়ঞার শ্রমিকের মৃত্যু, বাবার নতুন জামা নিয়ে আসার অপেক্ষায় মেয়ে

নিজের বাড়ি নেই। সরকারি জমিতে ছিটেবেড়ার ঘরেই দিন কাটে।

মুম্বইয়ে বড়ঞার শ্রমিকের মৃত্যু, বাবার নতুন জামা নিয়ে আসার অপেক্ষায় মেয়ে
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: নিজের বাড়ি নেই। সরকারি জমিতে ছিটেবেড়ার ঘরেই দিন কাটে। বর্ষার সময় গ্রামে কোনো আত্মীয়বাড়িতে উঠতে হয়। তাই জমি কেনার টাকা জোগাড়ে মুম্বইয়ে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন বছর ৩২-এর শের মহম্মদ শেখ। সাতবছরের ছোট্ট মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে কথা দিয়েছিলেন, দু’সেট নতুন জামা নিয়ে আসবেন। কিন্তু তা আর হল না। মুম্বইয়ে বহুতল থেকে পড়ে শের মহম্মদের মৃত্যুর খবর পেতেই ওই অসহায় পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। বড়ঞার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আনন্দনগরপাড়ায় তাঁর মা-বাবা ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছে। ছোট্ট মেয়ে আয়েশা খাতুন অবশ্য এখনও কিছু বোঝেনি। বাবা নতুন জামা নিয়ে আসবে-এই ভেবেই খুশি সে।

Advertisement

শের মহম্মদ কয়েকমাস আগে গ্রামের মাঠের দিকে অল্প টাকায় এক চিলতে জমির জন্য বায়না করেছিলেন। সেই জমি কেনার টাকা জোগাড়েই পাঁচমাস আগে তিনি মুম্বইয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজে যান। সেখানে গিয়ে একটি বহুতল তৈরির কাজও পেয়ে গিয়েছিলেন।

সম্প্রতি ওই বহুতলে প্লাস্টার করার কাজ চলছিল। সোমবার দুপুরের দিকে সেখানে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত শের মহম্মদ পড়ে গিয়ে মারাত্মক জখম হন। তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে খবর পৌঁছয়, ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই বাড়িতে কান্নার রোল ওঠে।

বৃহস্পতিবার ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, এক পড়শির বাড়িতে ওই যুবকের স্ত্রী সহ পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মহিলারা সেখানে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। মৃত যুবকের ছোট্ট মেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করছে, মা বাড়িতে এত লোক কেন? উত্তরে মা বলেন, ‘তোর আব্বাকে বাড়ি নিয়ে আসছে।’ এই শুনে একরত্তির মুখে হাসি ফুটল। সে বলল, আব্বা আমার দুই সেট নতুন জামা নিয়ে আসবে বলেছে। কখন আসবে মা?’

এই কথা কানে যেতেই নির্বাক হয়ে পড়লেন স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দা জহিরুল শেখ বলেন, বাচ্চা মেয়ে তো। অত কিছু বোঝে না। কিন্তু ওর এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের কারো নেই।

মৃতের স্ত্রী রকিয়া বিবি বলেন, স্বামীর মৃত্যুতে আমরা অসহায় হয়ে পড়লাম। বাড়ি ফিরেই বায়না দেওয়া জমিটার ফয়সালা করে বাড়ি তৈরি করবেন বলেছিলেন। সেইসঙ্গে মেয়ের জন্য দুই সেট নতুন জামা আনার কথা ছিল।

এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলি বলেন, মৃত যুবকের পরিবার একেবারে দুঃস্থ। বিভিন্ন সময় গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে সাহায্য করতে হয়েছে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তিরও এবার মৃত্যু হল। এখন কী হবে কে জানে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ