Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামে মাথাচাড়া দিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন, উদ্বেগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের ভিড়, নজরদারি গোয়েন্দাদের

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বাড়ছে।

সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামে মাথাচাড়া দিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন, উদ্বেগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের ভিড়, নজরদারি গোয়েন্দাদের
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বাড়ছে। একাধিক র‍্যাডিক্যাল সংগঠনের মাথারা মুর্শিদাবাদের সংগঠন বিস্তারে উঠে পড়ে নেমেছে। মৌলবাদী বিভিন্ন সংগঠনকে হাত করতে চাইছে তারা। এরই মধ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মুর্শিদাবাদ জেলায় ঢুকছে বহিরাগতরা। তাদের মধ্যেই লুকিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকর্তারা। তারাই সংগঠনের শক্তি বিস্তারের কাজ শুরু করেছে। এমন রিপোর্ট হাতে আসতেই উদ্বেগ বাড়ছে গোয়েন্দাদের। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা এই সমস্ত নিষিদ্ধ সংগঠনের বিস্তার ঠেকাতে তৎপরও হয়েছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের দু’একটি ধর্মীয় সমাবেশে ভিনরাজ্য এমনকি, ভিনদেশ থেকেও বহু মানুষ ঢুকেছে বলেই জানা গিয়েছে। সমাবেশ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে তাদের গতিবিধি বাড়ছে। 

Advertisement


কয়েক মাস আগে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জে বহিরাগতরা এসে গোলমাল পাকিয়েছিল। এমনটাই গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল। তারপর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে নাজেহাল হতে হয়েছিল পুলিশকে। ঘটনার পর সক্রিয় হয়ে ওঠে গোয়েন্দারা। তাঁদের রিপোর্টে উঠে আসে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, বাইরের রাজ্য থেকে এমনকী ভিনদেশ থেকেও এই গোটা হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছিল। টাকাও এসেছিল কয়েকটি গ্রুপের মাধ্যমে। নকশা অনুযায়ী প্ররোচনার ফাঁদে পা দিয়েছিল স্থানীয়রা। তারপর থেকে গোটা জেলাজুড়ে নজরদারি বাড়াতে শুরু করেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি বেশ কিছু তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির পাশাপাশি নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রচুর বহিরাগত মানুষের ভিড় বাড়ছে। এই সঙ্গে বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও র‍্যাডিক্যাল গ্রুপের সদস্যদের মুভমেন্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেই খবর। 
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠী মুর্শিদাবাদ সীমান্তে একটি মহিলা স্লিপার সেল তৈরির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। জেটিকে নামে এক মহিলা কমান্ডারকে বাংলাদেশ থেকে বেআইনি পথে ভারতে পাঠানো হয়েছে। সে ভারতীয় বধূ সেজে সীমান্তবর্তী এলাকায় লাগাতার সংগঠন বিস্তারের কাজ করছে। জলঙ্গিতে মাসখানেক আগে একটি বৈঠক হয়। সেখানে রানিতলা ডোমকল সাগরপাড়া জলঙ্গি ও মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু পুরুষ এবং মহিলা অংশ নেয় বলে জানা গিয়েছে। 


গোয়েন্দাদের দাবি, বরাবরই নেপাল থেকে পাকুড় হয়ে বীরভূমের মুরারই ঢোকার একটি পরিকল্পনা থাকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের। তারপর তারা মুর্শিদাবাদে চলে আসে। সীমান্তবর্তী গ্রামে ঘাঁটি গেড়ে চলে সংগঠন বাড়ানোর কাজ। মৌলবাদী সংগঠনের অনেকে আবার বাংলাদেশ থেকে মুর্শিদাবাদের খোলা সীমান্ত দিয়েই এপারে আসে। মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, সাগরপাড়া, রানিনগর, রানিতলা, সুতি, ভগবানগোলা ও লালগোলা সীমান্ত দিয়ে এর আগে একাধিকবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এবারও নির্বাচনের আগে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসআইআর পর্ব চলাকালীন বাড়ি বাড়ি গিয়েছে বিএলওরা। সেজন্য সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি থেকে পাত্তারি গুটিয়েছিল বহিরাগতরা। কিন্তু ফের তারা গ্রামগুলিতে ঘোরাঘুরি শুরু করেছে বলেই জানা গিয়েছে। 
শীতের মরশুমে প্রচুর ধর্মীয় জলসার আয়োজন করা হয় এই গ্রামগুলিতে। সেই জলসাতেও হাজির হয় ভিন জেলা ও ভিন রাজ্যের মানুষ। তাদের উপর কড়া নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ