‘হাইফেন’ রয়েছে আগের মতোই। তবে সঙ্গীর বদল হয়েছে কোথাও কোথাও। আগে একচ্ছত্র দাপট ছিল জিলিপি-শিঙাড়ার। আর এখন ভাগ বসিয়ে জুটিতে ঠাঁই পেয়েছে কচুরিও। শিঙাড়া বা কচুরি-এই দু’য়ের সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্য জিলিপি। আর এই আড়াই প্যাঁচের মিষ্টির আকর্ষণ অমলিন। সবাই জানি,জিলিপি নানান ধরনের। এরমধ্যে রয়েছে পেল্লাই জিলিপিও। তা আড়াই প্যাঁচের নয়। এক একটির ওজন হয় ১০ কেজি পর্যন্ত। প্রতি বছরই ভাদ্র সংক্রান্তির আগে থেকেই জিলিপি মেলার আয়োজন হয় বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া গ্রামে। সেখানেই মেলে এই বৃহদাকার জিলিপি। ভাদ্র সংক্রান্তিতে রাঢ়বঙ্গে ভাদু পুজো হয়। আর এই পুজোকে কেন্দ্র করেই কেঞ্জাকুড়া গ্রামে বসে জিলিপি মেলা। মিষ্টি দেখেই বাঙালির জিহ্বা উন্মুখ হয়ে ওঠে। আর এমন ১০ কেজি ওজনের জিলিপি দেখলে তো চোখ ফেরানো ভার। কেঞ্জাকুড়ায় গ্রামীণ মেলার সব অনুষঙ্গই রয়েছে। এরসঙ্গে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে পেল্লাই আকারের জিলিপি। এটাই মেলার প্রধান আকর্ষণ। সাধারণত তিন থেকে চার কেজি ওজন হয়ে থাকে এক একটি জিলিপির। তবে কোনও কোনওটির ওজন দশ কেজিও হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই বাঁকুড়া ছাপিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন একদিনের এই জিলিপি মেলায়। এমনকি কে কত বড় সাইজের জিলিপি তৈরি করতে পারেন, তা নিয়ে মেলায় কারিগরদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা হয়। কীভাবে তৈরি হয় এই জিলিপি? তা খোলসা করতে রাজি নন কেউই। তবে যেটুকু জানা গেল, এর প্রধান উপকরণ বিরি কড়াইয়ের বেসন ও আতপ চালের গুঁড়ি। আগের দিন রাত্রে আতপ চালের গুড়ি, বেসন, সামান্য পরিমানে ময়দা একটি বড় পাত্রে জল দিয়ে মেখে রাখা হয়। এই মিশ্রণটিকে বলা হয় ‘খামি’। কারিগররা জানান, এই খামি যত পুরনো হবে জিলিপি হবে ততই সুস্বাদু ও মুচমুচে। এরপর ছিদ্র যুক্ত বিশেষ ধরণের কাপড় লাগানো একটি পাত্র থেকে ফুটন্ত ঘি ভর্তি গরম কড়াইয়ে সাধারণ চলতি জিলিপির মতো তৈরি করা হয়। ভাজা হয়ে গেলে তা চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা হয়।



