নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও কোনও বিধানসভা আসনে তৃণমূলের ফল খুব খারাপ হচ্ছে। কিন্তু কে? সেই প্রশ্নটাই বাঁকুড়া জেলার নেতাদের কাছে রাখলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করে কীভাবে পিছিয়ে থাকা বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ফল ভালো করা যায়, সেই বার্তাটাই দিলেন তৃণমূল সেনাপতি।
বস্তুত, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে সংগঠনে রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে তৃণমূল জেলা সভাপতি ও জেলা চেয়ারম্যান পদে একাধিক অদলবদল করা হয়েছে। যুব, মহিলা ও শ্রমিক সংগঠনেও জেলাভিত্তিক বদল এনেছে তৃণমূল। আগামী দিনে টাউন ও ব্লক সভাপতি পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল। সেই সূত্রেই জেলার নেতাদের কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করা হচ্ছে।
শুক্রবার ক্যামাক স্ট্রিটে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক ও সুব্রত বক্সি। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা। দুটি পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। বিধানসভা ধরে ধরে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। ব্লক ও টাউন সভাপতিদের নাম না করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই তালিকা পেশ হবে। সেইসঙ্গে এদিন বৈঠকে আলোচনা হয় বিধানসভা আসনভিত্তিক তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে বিধানসভা আসনভিত্তিক তৃণমূলের ফল নিয়ে কাঁটাছেড়া হয়েছে বৈঠকে। বাঁকুড়া জেলার একাধিক বিধানসভা আসন বিজেপির দখলে। কেন সেখানে তৃণমূল পিছিয়ে, সেটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। তাহলে কোনও কোনও বিধানসভা আসনে কেন খারাপ ফল হচ্ছে? অবিলম্বে ঘাটতি মেরামত করতে হবে। যিনি যে আসনের দায়িত্বে আছেন, তিনি খামতিগুলি চিহ্নিত করুন। কেউ পদে থাকবেন কিন্তু সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন না, এটা হবে না। অভিষেকের নির্দেশ, দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সামঞ্জস্য রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন কোনওভাবেই দূরত্ব না থাকে। এককাট্টা হয়ে দলকে জেতাতে হবে। কোনও এলাকায় আরও কোনও উন্নয়নের প্রয়োজন হলে তা রিপোর্ট দিয়ে দলকে জানান। একইসঙ্গে বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে বিধায়কসহ সব জনপ্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে হবে। ওই শিবিরগুলিতে সময় দিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। আর প্রত্যেক বুথে ‘ভাষা আন্দোলন’ নিয়ে মিছিল করতে হবে কমপক্ষে দুটি করে।