নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বুলডোজার চলার আশঙ্কায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় জবরদখল সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। হাসপাতালের মূল প্রবেশপথের দু’পাশে ওই জবরদখল রয়েছে। সীমানা প্রাচীরের গা ঘেঁষে ত্রিপল ও বাঁশের কাঠামো দিয়ে প্রচুর ঝুপড়ি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এই জবরদখল হয়েছে। সম্প্রতি বাঁকুড়া মেডিকেলের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা সহ অন্যান্যরা বিজেপি বিধায়করাও মেডিকেলে যান। তাঁরা জবরদখল উচ্ছেদের পক্ষে সওয়াল করেন।
বাঁকুড়া মেডিকেলে কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, জবরদখল থাকার কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায়। তারফলে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে অসুবিধা হয়। তাতে রোগী ও পরিজনদের সমস্যা হয়। তবে হাসপাতালের বাইরে রাস্তার ফুটপাতে জবরদখলের বিরুদ্ধে পুরসভা বা প্রশাসনই যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।
নীলাদ্রিবাবু বলেন, আমরা গরিব হকার, ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে নই। তবে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটের দু’পাশে সংলগ্ন এলাকায় জবরদখলের কারণে চরম সমস্যা হচ্ছে। সেখানে বুলডোজার চালানো হতে পারে। তার আগেই জবরদখলকারীরা সরে যাবেন বলে আমরা আশা করছি।
গোবিন্দনগরের বাসিন্দা তাপস রজক বলেন, হাসপাতাল চত্বরে ত্রিপল খাটিয়ে ভুট্টা বিক্রি করতাম। কয়েকদিন ধরেই পুলিশ উঠে যেতে বলছে। আমি কাঠামো সরিয়ে নিয়েছি। পরে ডালা লাগিয়ে ভুট্টা বিক্রি করা যায় কি না তা দেখব। প্রশাসনের নির্দেশ আমরা মেনে চলব।
মেডিকেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জবরদখলের কারণে হাসপাতালের সামনে রাস্তা অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। পিচ রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত বলে কিছু নেই। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে। সামগ্রী বিক্রি না করলেও কেউ কেউ জায়গা দখলের রাখার জন্য ত্রিপল টাঙিয়ে রেখেছে। তারফলে হাসপাতালের সামনে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মাঝমধ্যে সেখানে দুর্ঘটনাও ঘটে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। প্রসূতি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে। জবরদখল না থাকলে রাস্তার যানজট কমবে। অন্যান্য যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে সহজেই প্রবেশ করতে পারবে। হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ তথা ‘মাতৃমা’ ভবন যাওয়ার বাইপাস রাস্তার সামনে ও দু’পাশেও বেআইনি দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। সেখানেও উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরে পুলিশের তরফে বেশ কয়েকটি বুলডোজার আনা হয়েছে। তাতে উচ্ছেদ অভিযানের জল্পনা ছড়িয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, পুলিশ লাইনে কিছু কাজ রয়েছে। সেই কারণে বুলডোজার আনা হয়েছে। আপাতত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তা হবে না একথাও বলা যাবে না।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিক্ষোভ বা আন্দোলন যাতে দানা বাঁধতে না পারে তারজন্যই পুলিশের তরফে আগাম উচ্ছেদের ব্যাপারে খোলসা করে কিছু বলা হচ্ছে না।