নয়াদিল্লি: বিগত ১২টি অর্থবর্ষে বৃহৎ কর্পোরেট ও সার্ভিস সেক্টরের প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মকুব করেছে ব্যাংকগুলি। চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে একথা জানিয়েছে কেন্দ্র। ঘটনাচক্রে, বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি, মেহুল চোকসিদের মতো ঋণখেলাপিদের এখনও দেশে ফেরাতে পারেনি নরেন্দ্র মোদির সরকার। তারই মধ্যে সরকার সংসদে স্বীকার করল, বড়ো কর্পোরেট সংস্থাগুলির পাহাড় প্রমাণ ঋণ ব্যাংকগুলির খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী সংসদে লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, ২০২৫ অর্থবর্ষে বৃহৎ শিল্প ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। ২০২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ৬৯ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) তথ্যের ভিত্তিতে একথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিগত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ মকুব হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে। ওই বছর ব্যাংকের খাতা থেকে মোছা হয়েছে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকার বৃহৎ কর্পোরেট ঋণ। চৌধুরী আরও বলেছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির জন্য জারি করা আরবিআই-এর ‘রেজোলিউশন অফ স্ট্রেসড অ্যাসেটস ডিরেকশনস ২০২৫’ অনুসারে, রাইট-অফ (যার একটি বড়ো অংশ কারিগরি/সতর্কতামূলক/আদায়াধীন অগ্রিমের কারণে হয়ে থাকে) হল একটি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি, যা কোনো ব্যাংক তার ব্যালেন্স শিট অ্যাডজাস্ট করার জন্য গ্রহণ করে। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আরবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর (প্রভিশনাল ডেটা) পর্যন্ত শেষ সাড়ে পাঁচ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির মোট ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকার ঋণ তাদের খাতা থেকে মুছে দিয়েছে।