


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে(সিএসপি) লুটপাট চালিয়ে পালাল ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার বলরামপুর থানার তেঁতলোর শালবনী গ্রামে এঘটনা ঘটে। পালানোর সময় এক সিভিক ভলান্টিয়ার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মাটিতে এক রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার কিছুক্ষণ পর বলরামপুর থানার বিশাল পুলিসবাহিনী এসে সমস্ত পয়েন্টে নাকা চেকিং শুরু করে। কিন্তু এদিন সন্ধ্যা অবধি দুষ্কৃতীদের ধরা সম্ভব হয়নি। দিনের পর দিন পুরুলিয়া জেলা ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন।
জেলা পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিন দুষ্কৃতী ওই সিএসপি থেকে ৩০হাজার টাকা লুট করেছে। পালানোর সময় এক সিভিক ভলান্টিয়ার বাধা দিলে এক রাউন্ড গুলি চালায়। আমরা দুষ্কৃতীদের ধরার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি।
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ১০টা। কিছুক্ষণ আগেই সিএসপি খুলেছে। তখনও গ্রাহকদের ভিড় জমেনি। ভিতরে একাই বসে ছিলেন সিএসপির কর্মী শচীনন্দন পাঠক। এমন সময় তিন যুবক সিএসপিতে ঢোকে। শচীনন্দনবাবু কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই যুবক তাঁর কপালে পিস্তল ঠেকায়। আর এক যুবক লুটপাট চালাতে থাকে। প্রায় ৩০হাজার টাকা, মোবাইল, ল্যাপটপ-হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, তাই লুট করে চলছিল দুষ্কৃতীরা। একসময় শচীনন্দনবাবুর ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে। তিনি বলেন, ‘পারলে গুলি চালা। লুট করতে দেব না।’। বেগতিক বুঝে লুটের সামগ্রী নিয়ে তাড়াতাড়ি সিএসপি ছাড়ে দুই যুবক। পালানোর সময় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
এখানেই শেষ নয়। পুলিস জানিয়েছে, একটি বাইকে করে ওই তিন যুবক সিএসপিতে এসেছিল। সেখানে লুটপাট চালিয়ে বলরামপুরের দিকে চম্পট দেয়। শচীনন্দনবাবুর চিৎকারে স্থানীয়রা সিএসপিতে আসেন। গ্রামেরই এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি তখন ওই সিএসপি থেকে দু’কিলোমিটার দূরে চণ্ডীতলা শিশুনিকেতনে কর্তব্যরত ছিলেন। দুষ্কৃতীরা সেদিকেই আসছে খবর পেয়ে তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামপদ পতি বলেন, বাইকে করে ওই তিন দুষ্কৃতীকে আসতে দেখামাত্রই রাস্তার পাশে রাখা ব্যারিকেড দুষ্কৃতীদের দিকে ঠেলে দেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। তিন দুষ্কৃতীই বাইক থেকে উল্টে পড়ে যায়। ওই সিভিক তাদের ধরতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এক দুষ্কৃতী মাটিতে এক রাউন্ড গুলি চালায়। মুহূর্তেই ‘ঠান্ডা’ হয়ে যান ওই সিভিক। এরপরই দুষ্কৃতীরা বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিস জানিয়েছে, এটা ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের কাণ্ড। তবে এঘটনাই প্রথম নয়। কখনও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সোনার দোকানে লুট, আবার কখনও ব্যাঙ্কের টাকা তুলে ফেরার সময় গ্রাহকের লক্ষাধিক টাকা লুট, কখনও বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি-এমন সব ঘটনা ঘটিয়েছে সেরাজ্যের দুষ্কৃতীরা। ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের অপরাধ রুখতে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনাস্থলে কার্তুজের খোল পড়ে।