নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: খাবারের দোকানে এসে দুই যুবক একের পর এক চিকেন রোল অর্ডার করে যাচ্ছে। দোকানদারের মুখেও হাসি ফুটছে। অর্ডার করার কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের হাতে রোল দেওয়া হয়। খাওয়ার পর তারা অনলাইনে ২৫০ টাকা বিল মিটিয়ে চলে যায়। ব্যালেন্স চেক করে নেন দোকানদার। কিন্তু একদিন পর একটি ফোনে ওই ব্যবসায়ীর ঘুম ছুটে যায়। চেন্নাই থেকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর অ্যাকাউন্টে সাইবার ক্রাইমের টাকা ঢুকেছে। অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ীর মাথায় হাত পড়েছে। বর্ধমান শহরের ওই খাবারের দোকানের মালিক বলেন, এরকম হলে অনলাইনে টাকা নেওয়া যাবে না। ২৫০ টাকার জন্য আমার কয়েক হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে আটকে গিয়েছে। ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েও কাজ হয়নি। সাইবার ক্রাইম থানা থেকে জানানো হয়, চেন্নাই পুলিশ অ্যাকাউন্টটি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নেওয়ার জন্যই এমনটা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে সাইবার ক্রাইমের টাকা জমা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে রোলের টাকা মেটানো হয়েছিল, তার মালিক চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। সাইবার অপরাধের সঙ্গে তার যুক্ত থাকার সম্ভবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতারকদের থেকে টাকা জমা পড়লে অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে আইনি পদক্ষেপের পর অ্যাকাউন্ট আবার চালু করা হয়। কিন্তু যে টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট থেকে জমা হয়, সেটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। টাকার আসল মালিকদের তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এক আধিকারিক বলেন, সম্প্রতি এধরনের বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ছে। ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকছে না। কে প্রতারক, আর কে স্বচ্ছ ক্রেতা, তা জানার ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের থাকে না। সাইবার প্রতারকরা বিভিন্ন জিনিস কিনে প্রতারণার টাকা খরচ করছে। তাতে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। তাঁদের ব্যাংক এবং সাইবার ক্রাইম থানায় দৌড় ঝাঁপ করতে হচ্ছে।



