Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

বণিক ও পণ্ডিত

উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনো আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরো একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।

বণিক ও পণ্ডিত
  • ১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: কলেজ দ্য ফ্রাঁস’-এর গ্রন্থাগারটি শুধু ছাত্র ও গবেষকদের জন্যই নয়, সাধারণ দর্শনার্থীর কাছেও এক তীর্থক্ষেত্রের মতোই। নানা দেশ থেকে কৌতূহলী মানুষেরা আসেন বইয়ের এই বিশাল সংগ্রহ দেখার জন্য। তবে তাঁরাও জানেন, এটা লাইব্রেরি। কখনো কেউ এখানে চড়া গলায় কথা বলেন না।

Advertisement

আর সেইজন্যই অধ্যাপক বার্নুফের বিশেষ কেবিন থেকে ভেসে আসা মৃদু কথোপকথনও ম্যাক্সমুলারের কানে ভেসে এল। কেউ এসেছেন এই বিখ্যাত পণ্ডিতের সঙ্গে দেখা করতে। এই কথাবার্তার যেটুকু ভগ্নাংশ তাঁর কানে ভেসে আসছে, সেটাই তাঁকে উত্তেজিত করে তোলার জন্য যথেষ্ট। 
এই অতিথি কথা বলছেন প্রাচীন ভারতে রচিত মহাকাব্য ও পুরাণগুলি সম্বন্ধে। ঝরঝরে ইংরেজিতেই হচ্ছে কথাবার্তা। ফলে ম্যাক্সমুলারের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, এ বিষয়ে বক্তার রীতিমতো গভীর জ্ঞান রয়েছে। 
ঝড়ের বেগে নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে বার্নুফের কেবিনের দরজা খুলে ঢুকে পড়লেন ম্যাক্সমুলার। স্বভাবতই তাঁর এই অদ্ভুত ব্যবহারে অবাক হয়ে ফিরে তাকালেন অধ্যাপকের সঙ্গে কথায় ব্যস্ত থাকা মাঝবয়সি পুরুষটি। এইবার ম্যাক্সমুলার বুঝতে পারলেন, ইনি সম্ভবত একজন প্রাচ্যদেশীয় মানুষ। তাঁর পরনে অসম্ভব ঝলমলে রঙের চোগা-চাপকান‌।
‘মার্জনা করবেন, আমি ঠিক এভাবে আপনাকে বিরক্ত করতে চাইনি,’ উত্তেজনায় কাঁপা গলায় বললেন ম্যাক্সমুলার, ‘মনে হচ্ছে আপনি একজন ভারতীয়। নিশ্চয়ই সংস্কৃত ভাষা জানেন?’ 
অপরিচিত মানুষটি কয়েক সেকেন্ড অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘মহাশয়ের পরিচয়?’ 
বার্নুফ এবার বলে উঠলেন, ‘আলাপটা আমি করিয়ে দিই বরং। এ আমারই ছাত্র। এই মুহূর্তে ঋগ্বেদের সংকলন আর সম্পাদনার কাজ করছে। ওর নাম ফ্রেডরিখ ম্যাক্সমুলার।’ 
‘ঋগ্বেদের সম্পাদনার কাজ?’ খুব অবাক হয়ে বললেন মানুষটি, ‘সেইজন্যই সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে আপনার এত কৌতূহল, তাই না?’ 
ম্যাক্সমুলার সরলভাবে হেসে বললেন, ‘আমি কখনো এমন কোনো মানুষকে দেখিনি, যিনি সংস্কৃত জানেন, সেই ভাষায় কথা বলতে পারেন। আপনি তো মনে হচ্ছে ভারত থেকেই এসেছেন। নিশ্চয়ই আপনি...।’
এইবার মধ্যবয়সি মানুষটি উঠে দাঁড়িয়ে ম্যাক্সমুলারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। হেসে বললেন, ‘আমার নাম দ্বারকানাথ ঠাকুর। আমি ভারত থেকেই এসেছি বটে, কিন্তু কিছু মন্ত্র ছাড়া আমি সংস্কৃত ভাষা জানি না। ভারতে কাজের যে দুটো ভাষা চালু আছে, তা হল ইংরেজি আর ফারসি। সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে জানেন, এমন মানুষ অত্যন্ত বিরল। আর তাছাড়া আমি একজন ব্যবসায়ী। সংস্কৃত না জানলেও আমার কাজ দিব্যি চলে যায়।’ 
ম্যাক্সমুলার হতাশ চোখে মানুষটির দিকে তাকালেন। বোঝাই যাচ্ছে, নিজের সংস্কৃতির প্রতি এই ব্যবসায়ীর কোনো দায়বদ্ধতা নেই। 
আরো একটা ব্যাপার অবশ্য তাঁকে অবাক করল। ইনি একটা পরাধীন দেশ থেকে এসেছেন। ইংল্যান্ডের একজন প্রজা বলা যেতে পারে। তাঁর সঙ্গে বার্নুফের মতো মহাপণ্ডিত মানুষ এমন সসম্ভ্রমে কথা বলছেন কেন, সেটা ম্যাক্সমুলারের বোধগম্য হল না। 
‘কিন্তু এ’কথা জেনে আমি যেমন অবাক, তেমনই খুশি হলাম যে, আপনি আমাদের দেশের লুপ্ত সম্পদ নিয়ে গবেষণা করছেন।’ বলে চলেছেন ভদ্রলোক, ‘সত্যি বলতে কী, যে দেশে বেদের উৎপত্তি, সেই ভারতবর্ষেই তার চর্চা প্রায় লুপ্ত হতে বসেছে।’ 
অসম্ভব বিস্মিত গলায় ম্যাক্সমুলার বললেন, ‘কী ভয়ানক! কিন্তু আপনারা তো শিক্ষিত ভারতীয়। এ বিষয়ে আপনাদের কোনো উদ্যোগ নেই কেন?’ 
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে দ্বারকানাথ বললেন, ‘আমার সমস্ত জীবন কেটে গিয়েছে মূলত বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালনার কাজে। সত্যি বলতে কী, আজই প্রথম আপনার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মনে হল, আমরা যারা আজকের শিক্ষিত ভারতীয়, প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই বটে।’ 
ম্যাক্সমুলার বললেন, ‘আমি খুব শিগগিরই লন্ডনে চলে যাব এই গবেষণার কাজেই। আপনি জানেন নিশ্চয়ই মসিয়েঁ, প্রাচীন পুঁথির এক অবিশ্বাস্য ভাণ্ডার আছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে।’ 
‘অথচ এগুলি মূলত ভারতের সম্পত্তি!’ অসন্তুষ্ট গলায় বললেন বার্নুফ। তিনি খাঁটি ফরাসি। ইংরেজদের এই কাজকে সমর্থন জানানোর দায় তাঁর নেই।
দ্বারকানাথ বললেন, ‘কিন্তু সেখানে যে এসবের কোনো গৌরব নেই মসিয়েঁ! এক্ষেত্রে রাগ করা অনর্থক। ক্যানিংহাম বা জেমস প্রিন্সেপ উদ্যোগী না হলে কি আমাদের বিপুল ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের কথা আমরা কখনো জানতে পারতাম?’ 
সামান্য অবাক হয়ে ভারতীয় পুরুষটিকে দেখলেন ম্যাক্সমুলার। এর আগে তিনি কোনো ভারতীয় দেখেননি। বোঝা যাচ্ছে, ইনি ইংরেজের অবদান অস্বীকার করতে চাইছেন না। কিন্তু এ কথাও ঠিক, ব্যবসার ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই ইনি সাংঘাতিক উদ্যোগী এবং সফল, কিন্তু নিজের দেশের সংস্কৃতির প্রতি এঁর তেমন কোনো গভীর আগ্রহ নেই। তা নাহলে তেইশ বছর বয়সি কোনো জার্মান তরুণের কথা শুনে ইনি বেদের ব্যাপারে সচেতন হতেন না। 
এরপরই অবশ্য দ্বারকানাথ ম্যাক্সমুলারকে নিমন্ত্রণ করলেন তাঁর হোটেলে। সংস্কৃত ভাষাটি এঁর আয়ত্তে থাক বা না থাক, একজন প্রকৃত ভারতীয়কে আরো কিছুক্ষণের জন্য কাছ থেকে দেখতে পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না ম্যাক্সমুলার। অধ্যাপকের অনুভূতি নিয়ে তখনই রওনা দিলেন তিনি। 
আর এই হোটেলের ঘরেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছিল এক মধুর বিস্ময়। 
একটি আস্ত স্যুইট ভাড়া নিয়ে প্যারিস শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত হোটেলটিতে আপাতত রয়েছেন দ্বারকানাথ। ফ্রান্সের রাজা লুই ফিলিপ দ্বারকানাথের প্রায় ব্যক্তিগত বন্ধু বলা যায়। ভার্সাই প্রাসাদে প্রায়ই নিমন্ত্রণ থাকে দ্বারকানাথের। ইনি যে একজন ধনকুবের, তরুণ ম্যাক্সমুলারের সে-কথা বুঝতে ভুল হল না।
কিন্তু ঐশ্বর্য নয়, দ্বারকানাথ তাঁকে বিস্মিত করে দিলেন তাঁর সংগীতের মাধ্যমে। 
এই হোটেলের ঘরেই ম্যাক্সমুলার জানতে পারলেন, দ্বারকানাথ অত্যন্ত সুস্বরের অধিকারী। তাঁর গলায় রীতিমতো সুর আছে এবং তার চাইতেও বড়ো কথা, সযত্নে গান শিখেছেন তিনি। ইতালিয়ান ও ফরাসি গানে তাঁর রীতিমতো দক্ষতা রয়েছে।
দু’লাইন গাওয়ার পরই অবশ্য তিনি বললেন, ‘ফ্রেডরিশ, তুমি বরং পিয়ানোয় বসো। যেভাবে তুমি হাঁটুর উপর দিয়ে আঙুল চালাচ্ছ, তাতে বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হচ্ছে না— এই বিদ্যা তোমার ভালোই রপ্ত আছে।’ 
ম্যাক্সমুলার অপ্রস্তুত হেসে বললেন, ‘ভালোভাবে বলা চলে না স্যার, তবে আমাদের পরিবারে অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি পিয়ানো-শিক্ষা প্রায় বাধ্যতামূলক বলা যায়। আশা করছি আপনার সংগীতের সঙ্গে আমার বাজনা বেমানান হবে না।’ 
হোটেলের এই ঘরেই পিয়ানো রয়েছে। এইবার ম্যাক্সমুলার গিয়ে বসলেন সেই পিয়ানোতে। চমৎকার খোলা গলায় বেশ কয়েকটা ইতালিয়ান এবং ফরাসি গান গেয়ে শোনালেন দ্বারকানাথ। কোনো ভারতীয়র পক্ষে এই সাফল্য যে কতখানি আশ্চর্যজনক, তা বুঝতে অসুবিধা হল না ম্যাক্সমুলারের। তার চাইতেও বড়ো কথা, একজন ব্যবসায়ী কতখানি সংগীতপ্রিয় হলে পাশ্চাত্য সংগীতশাস্ত্র এতটা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে পারেন, তা ভেবেও অবাক হয়ে গেলেন তিনি। ‌
আরো একটি কথা অবশ্যই না ভেবে পারলেন না ম্যাক্সমুলার। এই ভারতীয় ভদ্রলোক অবশ্যই উচ্চশিক্ষিত, পাশ্চাত্যের সব বিষয়েই তাঁর রীতিমতো দখল রয়েছে, তা নাহলে নিছক একজন ধনী ব্যক্তির সঙ্গে অধ্যাপক ও পণ্ডিত বার্নুফ সময় কাটাতে রাজি হতেন না। কিন্তু নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে এঁর মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত একটিও ভারতীয় সংগীত শোনাননি তিনি। 
আর ধৈর্য রাখতে না পেরে ম্যাক্সমুলার বলে বসলেন, ‘একটি অনুরোধ করতে চাই মহাশয়। আপনি যদি দয়া করে একটি প্রকৃত ভারতীয় সংগীত আমাকে শোনান, তাহলে খুশি হই। ভারতের অন্যান্য সমস্ত কিছুর মতোই সেখানকার গান সম্পর্কেও আমার প্রচুর কৌতূহল।’ 
দ্বারকানাথ অবশ্য বিশেষ আগ্রহ দেখালেন না এ বিষয়ে। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘সে তোমার ভালো লাগবে না।’
উত্তেজিত গলায় ম্যাক্সমুলার বললেন, ‘না শুনেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আমি রাজি নই। আপনি যদি দয়া করে অন্তত একটি গান আমাকে শোনান।’ 
আরো কিছুক্ষণ আপত্তি জানিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন দ্বারকানাথ। বললেন, ‘তাহলে এক কাজ করা যাক। এবার আমি বরং পিয়ানোয় বসছি। তুমি ওই সোফাটায় বসো।’ 
অর্থাৎ ইনি পিয়ানো বাজাতেও জানেন!
পিয়ানোর রিডগুলোর উপর দিয়ে কয়েকবার মৃদু আঙুল চালিয়ে নিলেন দ্বারকানাথ। তারপর মধুর গলায় গেয়ে উঠলেন, ‘বঁধু, কী আর বলিব আমি, মরণে জীবনে জনমে জনমে প্রাণনাথ হইও তুমি।’ 
মাক্সমুলার হতাশ চোখে তাকিয়ে রইলেন দ্বারকানাথের দিকে। এতক্ষণ অপূর্ব সব ইতালিয়ান ও ফরাসি গান শোনার পর এই গ্রাম্য সংগীত তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না। অথচ দ্বারকানাথ গানটি গাইছেন অসম্ভব আবেগ দিয়ে। তাঁর চোখ বন্ধ। মনে হচ্ছে, তিনি যেন কোন স্মৃতির অতলে ডুবে গিয়েছেন। 
গান শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে ম্যাক্সমুলারের দিকে ঘুরে বসলেন দ্বারকানাথ। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেমন লাগল ভারতীয় গান?’
এক মুহূর্তের দ্বিধার পর ম্যাক্সমুলার অন্তরের কথাটিই বললেন, ‘না মহাশয়! এই গান আমার ভালো লাগল না। এর সুর বা তাল— কিছুই আছে বলে মনে হল না।’ 
এতক্ষণ অসম্ভব ভদ্রভাবে কথাবার্তা চালিয়ে আসা মানুষটির সমস্ত দেহভঙ্গি যেন বদলে গেল নিমেষে। ভুরু কুঁচকে অসম্ভব তেতো গলায় তিনি বললেন, ‘এই হল তোমাদের মুশকিল। পাশ্চাত্যের যা কিছু ভালো, তাকে আমরা খোলা মনে বরণ করার চেষ্টা করেছি, বিপুল চেষ্টায় আয়ত্ত করেছি পাশ্চাত্য সংগীত। বছরের পর বছর শুনতে শুনতে, শিক্ষা নিতে নিতে এর রসগ্রহণ করতে পেরেছি আমি। কিন্তু সেই উদারতা এখনও তোমরা দেখাতে পারছ না। যে ভাষা নিয়ে তুমি গবেষণা করছ, তা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার পীঠস্থানের ভাষা। সেই দেশের সংস্কৃতিকে এভাবে অবহেলা কোরো না। অন্তরে শ্রদ্ধা না থাকলে কোনো প্রাচীন সভ্যতার মর্মে প্রবেশ করা যায় না।’ 
কিছুক্ষণের জন্য যেন স্তম্ভিত হয়ে গেলেন ম্যাক্সমুলার। ‌কোনো পরাধীন দেশের নাগরিক যে আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতার কেন্দ্র প্যারিসে বসে একজন ইউরোপিয়ানকে এইরকম কঠিন ভাষায় তিরস্কার করতে পারেন, তা যেন তাঁর ধারণার বাইরে ছিল। 
এইবার তিনি বুঝতে পারলেন, মানুষটিকে তিনি চিনতে ভুল করেছেন। ইউরোপীয় সভ্যতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকলেও নিজের সংস্কৃতিকে ইনি অসম্ভব ভালোবাসেন। স্বদেশকে বুকের ভিতরে নিয়েই ইনি বিশ্বভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন। 
রীতিমতো হতভম্ব হয়ে দ্বারকানাথের কাছে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলেন ম্যাক্সমুলার। 
ঘর ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিয়ানো থেকে উঠে এসে লেখার টেবিলের সামনে বসলেন দ্বারকানাথ। তুলে নিলেন চিঠি লেখার সরঞ্জাম।
এই মুহূর্তে দেবেন্দ্রনাথকে জানানো প্রয়োজন— ভারত থেকে কীভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বেদের চর্চা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেবেন্দ্র যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। ‌
এই চিঠি লেখার ফল হিসাবেই দেবেন্দ্রনাথ চারজন ব্রাহ্মণকে পাঠিয়ে দিলেন কাশীতে। সেখানে চারটি বেদ শিক্ষা করবেন তাঁরা। 
....
সুদূর প্যারিসে বসে এই খবর পেয়ে প্রসন্ন মনে হাসলেন দ্বারকানাথ। তিনি তো শুধু একজন প্রবাসী বণিক নন! তিনি যে ভারতীয় সভ্যতার একজন রাষ্ট্রদূত! সেই সভ্যতাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্বও যে তাঁরই, তা তিনি ভুলে যাবেন কেমন করে? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ