Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রকৃত ভোক্তারা বাংলার বাড়ি থেকে বঞ্চিত, ঘেরাও প্রধান

প্রকৃত প্রাপকরা আবাস যোজনার বাড়ি পায়নি— এই অভিযোগে বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের রায়পুর-সুপুর পঞ্চায়েতের প্রধান খুশি বাউরির বাড়ি ঘেরাও করল বঞ্চিতদের একাংশ।

প্রকৃত ভোক্তারা বাংলার বাড়ি থেকে বঞ্চিত, ঘেরাও প্রধান
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রকৃত প্রাপকরা আবাস যোজনার বাড়ি পায়নি— এই অভিযোগে বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের রায়পুর-সুপুর পঞ্চায়েতের প্রধান খুশি বাউরির বাড়ি ঘেরাও করল বঞ্চিতদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী সমর্থক ও যাদের পাকা বাড়ি রয়েছে তারাই আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দোতলা বাড়ির মালিকরাও নতুন করে বাড়ির টাকা পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। এরপর শুক্রবার সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের নতুন গীতগ্রাম ও অভিরামপুরের বাসিন্দারা প্রধানকে ঘিরে ধরেন। ফলে ওই গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বোলপুর থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপপ্রধান নিখিল বাছার বলেন, ‘কাউকেই বঞ্চিত করা হয়নি। ‌ব্লক প্রশাসন এলাকায় সার্ভে করে প্রকৃত প্রাপকদের বাড়ি দিয়েছে।’ 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় মোট ১৩০টি পরিবার বসবাস করে। মূলত, কৃষিজীবী ও নিম্ন মধ্যবিত্তের বসবাস। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরিজীবী, দোতলা বাড়ির মালিক ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরাই বারবার আবাস যোজনার সুবিধে পাচ্ছেন। ‌ প্রকৃত প্রাপকরা বাড়ি তৈরির কথা জিজ্ঞাসা করলে তাদের থেকে শাসক দলের নেতাদের একাংশ ২০ হাজার টাকা করে চাইছেন। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েই এদিন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান খুশি বাউরির বাড়ি ঘেরাও করেন এলাকাবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ উজির, নাজমুল বিবি, জরিনা বিবি বলেন, ‘২০১৮ সালে সার্ভের ভিত্তিতে গ্রামবাসীদের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। প্রশাসন থেকে ছবিও করে নিয়ে গিয়েছে। এর জন্য ছ’ বার ‌প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছি। তারপরেও বাড়ি পাইনি। অথচ নতুন তালিকায় যাদের নাম উঠেছে, তাদের বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এগুলি এক প্রকার বঞ্চনা। এরই প্রতিবাদে এদিন পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘেরাও করেছি।’ পঞ্চায়েতের প্রধান খুশি মুর্মু বলেন, ‘স্থানীয় বিডিও সার্ভে করে তালিকা তৈরি করেছেন। তখন আমি প্রধান পদে ছিলাম না। সুতরাং বিডিওই ভালো বলতে পারবেন।’ উপপ্রধান নিখিল বাছার বলেন, ২০১৮-১৯ সালের তালিকা দেখে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। নতুন তালিকার কেউ পায়নি। তালিকা তৈরির দায়িত্ব কেন্দ্র সরকার ব্লক প্রশাসনকে দিয়েছিল। বিডিও তার ভিত্তিতে কমিটি তৈরি করে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃত প্রাপকদের বাড়ি দিয়েছেন। এর জন্য তৃণমূলের কোনও নেতাকে টাকা দিতে হয়নি। আগে যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল পরবর্তীতে ভালো হয়েছে এমন নজিরও আছে। অভিযোগকারীদের বিষয়গুলি বোঝানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ