নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনে যুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে নিউটন দাসের মুখ সবাই চেনে। সেই ব্যক্তির নাম ভারতের ভোটার তালিকায়! কাকদ্বীপের ভোটার তিনি। খবরটি সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। প্রশাসনিক কাজ নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের এক নাগরিক কিভাবে এ দেশের ভোটার তালিকায় নাম তুললেন তা নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। তারপর নিউটনের নাম বাদ দিল জেলা প্রশাসন। অবশেষে ১১ বছর পর নাম কাটা পড়ল নিউটনের।
২০১৪ সাল থেকে কাকদ্বীপ বিধানসভার ভোটার তালিকায় নাম বাংলাদেশি নিউটন দাসের। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজে সে কথা জানান। তাঁর দাবি, পুরনো ভোটার কার্ডটি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তারপর ২০১৭ সালে আবার নতুন কার্ড তৈরি করান। জেলা প্রশাসন যদিও তদন্ত করতে গিয়ে দেখতে পায়, নিউটনের ভোটার কার্ড আদৌ হারিয়ে যায়নি। ঠিকানা বদল করেছিএলন। তারপর নয়া কার্ডও পেয়ে যান। এক বাংলাদেশি ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায়!
এই খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ঘটনার তদন্ত শেষ করে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয় তারা। তারপর জেলার নির্বাচনী বিভাগ নিউটনের ভোটার রহস্য ফাঁস করতে নামে। প্রথমে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) নিউটনের ভোটার কার্ডে দেওয়া ঠিকানায় যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে ছিলেন তাঁর দাদা। তিনি সাফ জানান, নিউটন বাংলাদেশে আছেন। এরপর প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজ সহজ হয়ে পড়ে। নিয়ম মত কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে গেলে ফর্ম সেভেন পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নোটিস দিয়ে হিয়ারিংয়ে ডাকার নিয়ম। এরপর নিউটনকে হাজিরা দিতে দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সে সময়ের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ জুন। কিন্তু নিউটন হাজির হননি। ফলে এরপর নাম বাদ দিতে আর কোনও বাধা থাকে না প্রশাসনের কাছে।
সোমবার দপ্তর খোলার পর ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয় বাংলাদেশি নিউটনের নাম। জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘নিয়ম মেনে সব করা হয়েছে। আমরা হিয়ারিংয়ে ডেকেছিলাম। কিন্তু উনি আসেননি। সেই কারণেই ওই ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়ে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত নিউটনের ভোটার তালিকার নাম থাকা নিয়ে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তেমনই তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি প্রকাশ্যে আসা নিয়েও শুরু হয়েছিল চর্চা। এবার বিষয়টি নিয়ে আর কোনও জলঘোলা হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।