


সংবাদদাতা, লালবাগ: বধূ নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে নবগ্রাম থানার একরোলে খোঁজ মিলল বাংলাদেশি মহিলার। গত চার মাস ধরে ওই মহিলা একরোলের বাসিন্দা সুরজ শেখের স্ত্রীর পরিচয়ে থাকছিল। এদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিস ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম আবভিনা খাতুন। বাড়ি বাংলাদেশের রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার বোয়রাখাই এলাকায়। অনুপ্রবেশকারীকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পুলিস সুরজকেও গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার ধৃতদের লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, ওই মহিলা দালালের মাধ্যমে এদেশে ঢুকে নবগ্রামের একরোলা গ্রামে থাকছিল। মহিলা ও তার আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে নবগ্রামের একরোল থেকে সুরজ ও বাংলাদেশের ওই মহিলা সৌদি আরবে কাজে গিয়েছিল। সেখানেই দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা হয়। দু’বছর আগে সুরজ নবগ্রামে এবং আবভিনা বাংলাদেশে ফিরে যায়। কিন্তু, দু’জনে নিজেদের দেশে ফিরে গেলেও ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। বছর খানেক আগে অনলাইনে দু’জনের বিয়ে হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপরেই আবভিনাকে এদেশে আনার চেষ্টা করতে থাকে সুরজ। চার মাস আগে দালালের মাধ্যমে আবভিনাকে অবৈধভাবে এদেশে নিয়ে আসতে সে সফল হয়। তারপর থেকে সুরজের স্ত্রীর পরিচয়ে একরোলে সে থাকছিল। মাসখানেক ধরে সুরজ আবভিনার উপর মানসিক ও দৈহিক অত্যাচার শুরু করে বলে অভিযোগ। প্রথমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বলে প্রতিবেশীরা হস্তক্ষেপ করেননি। কিন্তু, অত্যাচার চরমে উঠলে প্রতিবেশীরা নবগ্রাম থানায় বিষয়টি জানান। শনিবার বিকেলে বধূ নির্যাতনের তদন্তে গিয়েই পুলিস জানতে পারে নির্যাতনের শিকার ওই মহিলা আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। অবৈধভাবে এদেশে ঢুকেছিল।