Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অনুপ্রবেশ, জগাছায় পুলিশের জালে বাংলাদেশি দম্পতি

বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে জগাছা থানার উনসানি এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুপ্রবেশ, জগাছায় পুলিশের জালে বাংলাদেশি দম্পতি
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে জগাছা থানার উনসানি এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম রমজান গাজি (৩৬) ও আরিফা বেগম (৩৪)। শনিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উনসানি মাঝেরপাড়ার একটি বাড়িতে হানা দেয় জগাছা থানার পুলিশ। সেখান থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই দম্পতিকে। তাঁদের সঙ্গে ছিল চার শিশুসন্তানও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার শিশুর মধ্যে দু’জনের বয়স সাত বছরের বেশি হওয়ায় তাদের লিলুয়া হোমে পাঠানো হয়েছে। বাকি দু’জনের বয়স সাত বছরের কম। তারা আপাতত মায়ের সঙ্গেই রয়েছে।

Advertisement

পুলিশের দাবি, প্রায় ১৪ বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রতনপুর এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে আসেন ওই দম্পতি। এরপর জগাছার উনসানি মাঝেরপাড়ায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় তাঁরা ডাব ও তাল বিক্রি করত। দীর্ঘদিন ধরেই তারা স্থানীয়ভাবে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক পরিচয় দিয়ে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০১৪ সালের পর ভুয়ো নথি ব্যবহার করে তাঁরা রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার, প্যান, এমনকি পাসপোর্টও তৈরি করে নেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাঁরা ভোট দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাতিল হওয়ায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তারা।
শনিবার রাতে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু করে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক রমজান গাজিকে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজত এবং আরিফা বেগমকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই পরিবার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছিল। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দেন, হাওড়া স্টেশন বা জেলার অন্যত্র বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের আদালতে না তুলে খাইয়ে-দাইয়ে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। এরপরই জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ