Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোপড়ায় ফের গ্রেপ্তার বাংলাদেশি, ভোটের মুখে অনুপ্রবেশ নিয়ে তরজা

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সীমান্ত এলাকায় ফের অনুপ্রবেশের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়।

চোপড়ায় ফের গ্রেপ্তার বাংলাদেশি, ভোটের মুখে অনুপ্রবেশ নিয়ে তরজা
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চোপড়া: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সীমান্ত এলাকায় ফের অনুপ্রবেশের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়। নয়দিনের ব্যবধানে এনিয়ে দ্বিতীয়বার এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মহম্মদ জাহিরুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া থানার কানকাটা এলাকায়। শনিবার ধৃতকে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তুলে চারদিনের হেপাজতে নিয়েছে পুলিশি। 

Advertisement

শুক্রবার বিকেলে চোপড়া ব্লকের হাপতিয়াগছ গ্রাম পঞ্চায়েতের জিরোপানি এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সন্দেহভাজন এক যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন জওয়ানরা। তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে কোনও বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি। এরপরই অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিএসএফ ওই যুবককে চোপড়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে এদিন তাকে আদালতে পেশ করে। 
আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃত যুবক স্বীকার করে গত ১২ মার্চ কালাগছ এলাকায় মোবাইল চুরির অভিযোগে ধৃত বাংলাদেশি মহম্মদ সামিমের সঙ্গে তার পরিচয় রয়েছে। 
সামিমও বাংলাদেশের একই এলাকার বাসিন্দা এবং সে মহানন্দা নদী পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিল। ভোটের মুখে পরপর অনুপ্রবেশের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ফজলুল হক সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারকে বদনাম করতে এটা কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্ত হতে পারে। কেন্দ্রের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী সীমান্তে কী করছে? কেন তারা এই অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে পারছে না? স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় পাল্টা রাজ্য প্রশাসনের নজরদারি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে সীমান্ত পার করে দুষ্কৃতীদের ঢোকানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একের পর এক বাংলাদেশি যুবক এভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে চলে আসায় এর নেপথ্যে কোনও বড়সড় পাচার চক্র বা অসাধু উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 
নদীপথ নাকি অন্য কোনও গোপন উপায়ে এই অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা জানতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নয়দিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হওয়ায় সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বর্তমানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ